ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৬ ঘন্টা আগে
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচল করা দু’টি যাত্রীবাহী বাসের ভাড়া বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। তাদের অনেকের অভিযোগ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির চেয়ে ভাড়া বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। আবার কেউ বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বাসভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখতে পারলেও এবার সেটি ব্যর্থ হয়েছে।
পরিবহন মালিক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পথে আগে বেসরকারি কয়েকটি পরিবহনের বাস চলাচল করলেও বর্তমানে সিটি বন্ধন পরিবহন ও উৎসব ট্রান্সপোর্টের শতাধিক বাস চলাচল করে।
যাত্রীরা বলছেন, কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই গত ১ মে সকাল থেকে ৫৫ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। যা আগে ছিল ৫০ টাকা। এ নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেন তারা।
তবে ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারাও অবগত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে ওই দায়িত্বে থানা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নিলুফা ইয়াসমিন।
প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ভাড়া বাড়ানো উচিত ছিল বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ।
তিনি বলেন, “বাস মালিকেরা একতরফাভাবে ভাড়া বৃদ্ধি করতে পারেন না। প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সাথে যোগাযোগ করে একটি আলোচনার মাধ্যমে ভাড়া বৃদ্ধি বা কমানো উচিত। যেটি এর আগেও হয়েছিল। এটি অযৌক্তিক। আমরা জানার চেষ্টা করছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথাও বলা হবে।”
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “আমি মনে করি ভাড়া বৃদ্ধি এটি জনগণের ওপর বোঝা। এবং আমি হিসাব করে দেখেছি- যে ভাড়া ২ টাকার কিছু বেশি হয়। এবং তাদের বলেছিলাম ২ টাকা বৃদ্ধি করতে। কিন্তু তারা ৫ টাকা বৃদ্ধি করেছে।”
তিনি বলেন, “প্রশাসন এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে এবং একটি যৌক্তিক ভাড়ায় নিয়ে আসবে। সরকার যে ভাড়া বৃদ্ধি করেছে সেটি সবার সাথে আলোচনার মাধ্যমে বাড়িয়েছে। সুতরাং বাস মালিকরা ইচ্ছামতো ভাড়া বৃদ্ধি করলে হবে না। সে অবস্থায় আছে তার মধ্যে থাকতে হবে।”
নারায়ণগঞ্জ যাত্রী অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, “ সরকার নির্ধারিত বর্ধিত ভাড়া ১৮ কিলোমিটারে ১ টাকা ৯৮ পয়সা। কিন্তু পরিবহন মালিকগণ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ’র দূরত্ব সাড়ে ১৯ কিলোমিটার বলে দাবি করেন। তাদের সে দাবি অনুযায়ীও ভাড়া বৃদ্ধি পায় ২ টাকা ১৮ পয়সা। কিন্তু তারা ৫ টাকা ভাড়া বৃদ্ধি করেছেন।
“বিভিন্ন সময় গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির সময় যাত্রী সাধারণের সাথে জেলা আরটিসির প্রধান হিসেবে জেলা প্রশাসক আলোচনা করেন। কিন্তু এবার তা করা হয় নাই। আমরা ভাড়া বৃদ্ধির এ প্রক্রিয়ার নিন্দা জানাই,” যোগ করেন রাব্বি।
কোনো আলোচনা ছাড়াই ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে বৈঠকে বসবেন এবং বৈঠকে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনের ডাক দিবেন বলেও জানান তিনি।
মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা বলেন, “আমরা যৌক্তিকভাবে যেকোনো কিছুর সাথেই থাকবো। গত বছর একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিল। তখন আন্দোলন হয়েছে দাবি আদায়ের জন্য। তবে এবার যেহেতু একটি সরকার আছে, সরকারি প্রশাসন, এমপি ও প্রশাসকেরা আসেছেন। তারা সকলে বসে একটি যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করে দিবে।”
আলোচনা ছাড়াই ভাড়া বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়াকে নিন্দা জানিয়ে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, “যে পরিমাণ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি হয়েছে, তার থেকে বহুগুণ ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। সিন্ডিকেটের কারণে কারও সাথে আলাপ আলোচনা না করে নিজেরা নিজেদের মতো করে ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। এজন্য আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
অর্ন্তর্বতীকালীন সরকারের সময় আন্দোলনের মুখে বাসভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে থাকলেও এবার তা অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন গণসংহতি আন্দোলনের জেলা কমিটির সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম সুজন।
বিগত সময়ে বাসভাড়া কমানোর দাবির আন্দোলনেও সোচ্চার থাকা এ রাজনৈতিক নেতা বলেন, “বাস মালিকেরা জেলার কোনো দায়িত্বশীলদের সাথে আলাপ-আলোচনা ছাড়াই ভাড়া বাড়িয়ে স্বেচ্ছাচারিতা করেছে। এমনকি তারা প্রশাসনকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও যেমন পরিবহন সেক্টরে সিন্ডিকেট নৈরাজ্য ছিল, এখনো তাই আছে বলেই এভাবে জনগণের পকেট কাটতে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।”
ইসলামী আন্দোলনের মহানগর শাখার সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ নিন্দা জানিয়ে বলেন, “তারা প্রশাসন থেকে শুরু করে কারও সাথে আলাপ আলোচনা না করেই ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। এবং তারা যদি একতরফাভাবে বৃদ্ধি করে তাহলে জনগণ ফুঁসে উঠবে।”
জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ফারহানা মানিক মুনা একটি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “জ্বালানির মূল্য বাড়ার উসিলায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাসের ভাড়া বাড়ানো চলবে না। বাস ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাদ দিতে হবে।”
তিনি বাসে শিক্ষার্থীদের হাফ-পাশ নিয়মিত করারও দাবি জানান।
২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জে বাসভাড়া কমানোর দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলে নারায়ণগঞ্জ যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম। তারা আধাবেলা হরতালেরও ঘোষণা দেন।
পরে হরতালের এক দিন আগে, ১৬ নভেম্বর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বাস মালিক ও যাত্রী অধিকার ফোরামের সঙ্গে বৈঠক করে বাসভাড়া কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করেন।
এই সিদ্ধান্তের নয় মাসের মাথায় গত বছরের ২০ আগস্ট বাসভাড়া পুনরায় বাড়ানো হয়। যদিও নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা পথে সরকারি পরিবহন বিআরটিসির বাসগুলোতে ভাড়া ৪৫ টাকা রয়েছে।
সমালোচনা ও বিরোধিতার মুখে সেবারও ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হন বাস মালিকরা। ভাড়া বাড়ানোর তৃতীয় দিনের মাথায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বর্ধিত ৫ টাকা ভাড়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়।
এবারও আলোচনা ছাড়া বাসভাড়া বাড়ানোয় ক্ষোভ বিরাজ করছে যাত্রীদের মধ্যে। এ নিয়ে তারা আন্দোলনে নামতে পারেন বলেও পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ফারহানা মানিক মুনা একটি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “জ্বালানির মূল্য বাড়ার উসিলায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাসের ভাড়া বাড়ানো চলবে না। বাস ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাদ দিতে হবে।”
তিনি বাসে শিক্ষার্থীদের হাফ-পাশ নিয়মিত করারও দাবি জানান।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ

আপডেট সময় ৬ ঘন্টা আগে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচল করা দু’টি যাত্রীবাহী বাসের ভাড়া বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। তাদের অনেকের অভিযোগ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির চেয়ে ভাড়া বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। আবার কেউ বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বাসভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখতে পারলেও এবার সেটি ব্যর্থ হয়েছে।
পরিবহন মালিক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পথে আগে বেসরকারি কয়েকটি পরিবহনের বাস চলাচল করলেও বর্তমানে সিটি বন্ধন পরিবহন ও উৎসব ট্রান্সপোর্টের শতাধিক বাস চলাচল করে।
যাত্রীরা বলছেন, কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই গত ১ মে সকাল থেকে ৫৫ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। যা আগে ছিল ৫০ টাকা। এ নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেন তারা।
তবে ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারাও অবগত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে ওই দায়িত্বে থানা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নিলুফা ইয়াসমিন।
প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ভাড়া বাড়ানো উচিত ছিল বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ।
তিনি বলেন, “বাস মালিকেরা একতরফাভাবে ভাড়া বৃদ্ধি করতে পারেন না। প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সাথে যোগাযোগ করে একটি আলোচনার মাধ্যমে ভাড়া বৃদ্ধি বা কমানো উচিত। যেটি এর আগেও হয়েছিল। এটি অযৌক্তিক। আমরা জানার চেষ্টা করছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথাও বলা হবে।”
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “আমি মনে করি ভাড়া বৃদ্ধি এটি জনগণের ওপর বোঝা। এবং আমি হিসাব করে দেখেছি- যে ভাড়া ২ টাকার কিছু বেশি হয়। এবং তাদের বলেছিলাম ২ টাকা বৃদ্ধি করতে। কিন্তু তারা ৫ টাকা বৃদ্ধি করেছে।”
তিনি বলেন, “প্রশাসন এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে এবং একটি যৌক্তিক ভাড়ায় নিয়ে আসবে। সরকার যে ভাড়া বৃদ্ধি করেছে সেটি সবার সাথে আলোচনার মাধ্যমে বাড়িয়েছে। সুতরাং বাস মালিকরা ইচ্ছামতো ভাড়া বৃদ্ধি করলে হবে না। সে অবস্থায় আছে তার মধ্যে থাকতে হবে।”
নারায়ণগঞ্জ যাত্রী অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, “ সরকার নির্ধারিত বর্ধিত ভাড়া ১৮ কিলোমিটারে ১ টাকা ৯৮ পয়সা। কিন্তু পরিবহন মালিকগণ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ’র দূরত্ব সাড়ে ১৯ কিলোমিটার বলে দাবি করেন। তাদের সে দাবি অনুযায়ীও ভাড়া বৃদ্ধি পায় ২ টাকা ১৮ পয়সা। কিন্তু তারা ৫ টাকা ভাড়া বৃদ্ধি করেছেন।
“বিভিন্ন সময় গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির সময় যাত্রী সাধারণের সাথে জেলা আরটিসির প্রধান হিসেবে জেলা প্রশাসক আলোচনা করেন। কিন্তু এবার তা করা হয় নাই। আমরা ভাড়া বৃদ্ধির এ প্রক্রিয়ার নিন্দা জানাই,” যোগ করেন রাব্বি।
কোনো আলোচনা ছাড়াই ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে বৈঠকে বসবেন এবং বৈঠকে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনের ডাক দিবেন বলেও জানান তিনি।
মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা বলেন, “আমরা যৌক্তিকভাবে যেকোনো কিছুর সাথেই থাকবো। গত বছর একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিল। তখন আন্দোলন হয়েছে দাবি আদায়ের জন্য। তবে এবার যেহেতু একটি সরকার আছে, সরকারি প্রশাসন, এমপি ও প্রশাসকেরা আসেছেন। তারা সকলে বসে একটি যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করে দিবে।”
আলোচনা ছাড়াই ভাড়া বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়াকে নিন্দা জানিয়ে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, “যে পরিমাণ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি হয়েছে, তার থেকে বহুগুণ ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। সিন্ডিকেটের কারণে কারও সাথে আলাপ আলোচনা না করে নিজেরা নিজেদের মতো করে ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। এজন্য আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
অর্ন্তর্বতীকালীন সরকারের সময় আন্দোলনের মুখে বাসভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে থাকলেও এবার তা অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন গণসংহতি আন্দোলনের জেলা কমিটির সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম সুজন।
বিগত সময়ে বাসভাড়া কমানোর দাবির আন্দোলনেও সোচ্চার থাকা এ রাজনৈতিক নেতা বলেন, “বাস মালিকেরা জেলার কোনো দায়িত্বশীলদের সাথে আলাপ-আলোচনা ছাড়াই ভাড়া বাড়িয়ে স্বেচ্ছাচারিতা করেছে। এমনকি তারা প্রশাসনকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও যেমন পরিবহন সেক্টরে সিন্ডিকেট নৈরাজ্য ছিল, এখনো তাই আছে বলেই এভাবে জনগণের পকেট কাটতে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।”
ইসলামী আন্দোলনের মহানগর শাখার সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ নিন্দা জানিয়ে বলেন, “তারা প্রশাসন থেকে শুরু করে কারও সাথে আলাপ আলোচনা না করেই ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। এবং তারা যদি একতরফাভাবে বৃদ্ধি করে তাহলে জনগণ ফুঁসে উঠবে।”
জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ফারহানা মানিক মুনা একটি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “জ্বালানির মূল্য বাড়ার উসিলায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাসের ভাড়া বাড়ানো চলবে না। বাস ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাদ দিতে হবে।”
তিনি বাসে শিক্ষার্থীদের হাফ-পাশ নিয়মিত করারও দাবি জানান।
২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জে বাসভাড়া কমানোর দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলে নারায়ণগঞ্জ যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম। তারা আধাবেলা হরতালেরও ঘোষণা দেন।
পরে হরতালের এক দিন আগে, ১৬ নভেম্বর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বাস মালিক ও যাত্রী অধিকার ফোরামের সঙ্গে বৈঠক করে বাসভাড়া কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করেন।
এই সিদ্ধান্তের নয় মাসের মাথায় গত বছরের ২০ আগস্ট বাসভাড়া পুনরায় বাড়ানো হয়। যদিও নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা পথে সরকারি পরিবহন বিআরটিসির বাসগুলোতে ভাড়া ৪৫ টাকা রয়েছে।
সমালোচনা ও বিরোধিতার মুখে সেবারও ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হন বাস মালিকরা। ভাড়া বাড়ানোর তৃতীয় দিনের মাথায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বর্ধিত ৫ টাকা ভাড়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়।
এবারও আলোচনা ছাড়া বাসভাড়া বাড়ানোয় ক্ষোভ বিরাজ করছে যাত্রীদের মধ্যে। এ নিয়ে তারা আন্দোলনে নামতে পারেন বলেও পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ফারহানা মানিক মুনা একটি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “জ্বালানির মূল্য বাড়ার উসিলায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাসের ভাড়া বাড়ানো চলবে না। বাস ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাদ দিতে হবে।”
তিনি বাসে শিক্ষার্থীদের হাফ-পাশ নিয়মিত করারও দাবি জানান।