ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মদনপুর স্ট্যান্ডে দখলদারিত্বের মহোৎসব

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৬ ঘন্টা আগে
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার অন্যতম ব্যস্ততম পয়েন্ট মদনপুর বাস স্ট্যান্ড এখন দখলদারদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ দোকানপাট, ফুটপাত দখল এবং অবৈধ বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে প্রতিমাসে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। প্রভাবশালী একটি চক্রের এমন বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে সাধারণ পথচারীদের নাভিশ্বাস উঠলেও রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় প্রশাসন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কের দুই পাশে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দু’ধারে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ খাবারের হোটেল ও অস্থায়ী দোকান। মহাসড়কের পাশের ফুটপাতগুলো এখন পুরোপুরি হকারদের নিয়ন্ত্রণে। এমনকি পথচারীদের পারাপারের জন্য নির্মিত ফুটওভার ব্রিজটিও রেহাই পায়নি। ব্রিজের দুই পাশ হকাররা দখল করে রাখায় সাধারণ মানুষের ওঠানামা করা দায় হয়ে পড়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, এই অবৈধ দোকানগুলোতে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই দেওয়া হয়েছে অবৈধ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ। হোটেল মালিকরা এসব সংযোগ ব্যবহার করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং এর বিনিময়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট প্রতিমাসে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এই চাঁদাবাজির টাকা ভাগ হচ্ছে বিভিন্ন স্তরে, যার ফলে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয়দের মতে, এই দখলদারিত্বের নেপথ্যে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট চক্র। সরকারি জায়গা ভাড়া দিয়ে এবং ফুটপাত থেকে চাঁদা তুলে চক্রটি রাতারাতি ‘আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ’ হয়ে উঠছে। অথচ রাস্তার জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ায় বাস স্ট্যান্ড এলাকায় প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই থাকছে।
ভুক্তভোগী এক পথচারী বলেন, “রাস্তা দিয়ে হাঁটার কোনো উপায় নেই। ফুটপাত তো আগেই গেছে, এখন ওভারব্রিজেও দোকান বসানো হয়েছে। প্রশাসন সব দেখেও না দেখার ভান করে আছে।”
মদনপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে দিনের আলোতে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের নীরবতা সাধারণ মানুষকে হতাশ করেছে। কোনো উচ্ছেদ অভিযান না হওয়ায় দখলদাররা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এলাকাবাসীর দাবি, এই অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ সুগম করা হোক এবং অবৈধ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শিবানী সরকার জানান, গত ঈদুল ফিতরের আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে নোটিশ দিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছিলো। ওই যায়গা মূলত রোডস এন্ড হাইওয়ের ও রেলওয়ের। তারা যদি নোটিশ করে কিংবা তাদের যায়গা দখলমুক্ত করার জন্য ডিসি অফিসে জানায় বা ডিসি অফিস থেকে আমাদের নির্দেশনা দেয় সেক্ষেত্রে আমরা ব্যবস্থা নিবো। মূলত রোডস এন্ড হাইওয়ে কিংবা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রথম পদক্ষেপটা নিতে হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

মদনপুর স্ট্যান্ডে দখলদারিত্বের মহোৎসব

আপডেট সময় ৬ ঘন্টা আগে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার অন্যতম ব্যস্ততম পয়েন্ট মদনপুর বাস স্ট্যান্ড এখন দখলদারদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ দোকানপাট, ফুটপাত দখল এবং অবৈধ বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে প্রতিমাসে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। প্রভাবশালী একটি চক্রের এমন বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে সাধারণ পথচারীদের নাভিশ্বাস উঠলেও রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় প্রশাসন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কের দুই পাশে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দু’ধারে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ খাবারের হোটেল ও অস্থায়ী দোকান। মহাসড়কের পাশের ফুটপাতগুলো এখন পুরোপুরি হকারদের নিয়ন্ত্রণে। এমনকি পথচারীদের পারাপারের জন্য নির্মিত ফুটওভার ব্রিজটিও রেহাই পায়নি। ব্রিজের দুই পাশ হকাররা দখল করে রাখায় সাধারণ মানুষের ওঠানামা করা দায় হয়ে পড়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, এই অবৈধ দোকানগুলোতে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই দেওয়া হয়েছে অবৈধ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ। হোটেল মালিকরা এসব সংযোগ ব্যবহার করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং এর বিনিময়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট প্রতিমাসে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এই চাঁদাবাজির টাকা ভাগ হচ্ছে বিভিন্ন স্তরে, যার ফলে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয়দের মতে, এই দখলদারিত্বের নেপথ্যে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট চক্র। সরকারি জায়গা ভাড়া দিয়ে এবং ফুটপাত থেকে চাঁদা তুলে চক্রটি রাতারাতি ‘আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ’ হয়ে উঠছে। অথচ রাস্তার জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ায় বাস স্ট্যান্ড এলাকায় প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই থাকছে।
ভুক্তভোগী এক পথচারী বলেন, “রাস্তা দিয়ে হাঁটার কোনো উপায় নেই। ফুটপাত তো আগেই গেছে, এখন ওভারব্রিজেও দোকান বসানো হয়েছে। প্রশাসন সব দেখেও না দেখার ভান করে আছে।”
মদনপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে দিনের আলোতে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের নীরবতা সাধারণ মানুষকে হতাশ করেছে। কোনো উচ্ছেদ অভিযান না হওয়ায় দখলদাররা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এলাকাবাসীর দাবি, এই অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ সুগম করা হোক এবং অবৈধ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শিবানী সরকার জানান, গত ঈদুল ফিতরের আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে নোটিশ দিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছিলো। ওই যায়গা মূলত রোডস এন্ড হাইওয়ের ও রেলওয়ের। তারা যদি নোটিশ করে কিংবা তাদের যায়গা দখলমুক্ত করার জন্য ডিসি অফিসে জানায় বা ডিসি অফিস থেকে আমাদের নির্দেশনা দেয় সেক্ষেত্রে আমরা ব্যবস্থা নিবো। মূলত রোডস এন্ড হাইওয়ে কিংবা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রথম পদক্ষেপটা নিতে হবে।