স্টাফ রিপোর্টার
ফতুল্লা থানাধীন গাবতলী এলাকার দোহার ভিলা সংলগ্ন মাঠে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে বসছে মাদকের হাট এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উৎস নামের এক মাদক ব্যবসায়ী, যিনি প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করে এলাকাজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন বলে দাবি বাসিন্দাদের। তার অত্যাচার, দাপট এবং প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বিকেল গড়াতেই দোহার ভিলার পেছনের খোলা মাঠে জমে ওঠে মাদকের আসর। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ভিড় বাড়তে থাকে, যেখানে গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য প্রকাশ্যেই বিক্রি করা হয়। আশপাশের এলাকার কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ নিয়মিত সেখানে যাতায়াত করে, যা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, সহজলভ্যতার কারণে নতুন প্রজন্ম দ্রুত মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে জানান, উৎস দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগেও তাকে কয়েকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করেছিল। কিন্তু প্রতিবারই রহস্যজনকভাবে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও আগের মতোই ব্যবসা শুরু করেন তিনি। ফলে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, আমরা বহুবার দেখেছি পুলিশ এসে অভিযান চালায়, কিন্তু কিছুদিন পর আবার সব আগের মতো হয়ে যায়। এতে মনে হয়, কোথাও না কোথাও বড় ধরনের গাফিলতি রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, উৎস একজন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার ছত্রছায়ায় থেকে এই মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার পেছনে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে, যারা এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখে। এর আগে উৎস এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ‘পেট কাটা রকি’র আশ্রয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতেন বলেও জানা গেছে। সেই পুরোনো নেটওয়ার্ক এখনও সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা এলাকাবাসীর।
অভিযোগ রয়েছে, উৎস নিয়মিত ফতুল্লা থানার কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে মাসোহারা দিয়ে থাকেন। যার কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। প্রতিদিন পুলিশি টহল থাকা সত্ত্বেও মাদকের এই হাট বন্ধ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বাড়ছে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুব হোসেন জানান,বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, এলাকার অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা প্রতিনিয়ত খারাপ পরিবেশের মুখোমুখি হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত এই মাদক ব্যবসা বন্ধ করা হোক এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং আইন প্রয়োগে শৈথিল্যের কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। তারা বলছেন, শুধু অভিযানে নয়, টেকসই সমাধানের জন্য প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, সামাজিক সচেতনতা এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপ।
এলাকাবাসী মনে করেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে গাবতলী এলাকার সামাজিক পরিবেশ আরও অবনতির দিকে যাবে। অপরাধ বাড়বে, তরুণ প্রজন্ম ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়বে।
তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই। আমাদের এলাকায় মাদকের হাট নয়, নিরাপদ পরিবেশ চাই।
এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত উপস্থিতির পরও কীভাবে প্রকাশ্যে এমন মাদক বাণিজ্য চলতে পারে? কারা দিচ্ছে এর পেছনে শক্তি? আর কতদিন এমন পরিস্থিতির মধ্যে বসবাস করতে হবে সাধারণ মানুষকে?
গাবতলীর এই মাদক চক্র ভাঙতে এখন কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় এলাকাবাসী। তারা আশাবাদী, প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ নিলে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নেয়।
সংবাদ শিরোনাম ::
গাবতলিতে প্রকাশ্যে মাদকের হাট!
-
ডেস্ক : - আপডেট সময় এক ঘন্টা আগে
- ০ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ নিউজ





















