ঢাকা , রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে অফিস দখলের চেষ্টা

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ২ ঘন্টা আগে
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
সিদ্ধিরগঞ্জে হিরাঝিল আবাসিক এলাকার বহু আলোচিত ও সমালোচিত হিরাঝিল সমাজ কল্যাণ সমিতি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে সিদ্ধিরগঞ্জে বৈষম্য বিরোধী হত্যা মামলার আসামি হীরাঝিল এলাকার বাসিন্দা রজ্জব আলীর ছেলে মুক্তার হোসেন সরকারও দেলোয়ার হোসেন সরকাররা। মুক্তার হোসেন সরকার ও দেলোয়ার হোসেন সরকার গংরা নারায়ণগঞ্জ ৩ আসনের এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নানের নাম ভাঙ্গিয়ে সমিতি অফিস দখলের পায়তারা করছে বলে জানায় এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানায়, গত কয়েকদিন ধরে মুক্তার হোসেন সরকার ও দেলোয়ার হোসেন সরকাররা হীরাঝিল বাসিন্দাদের জানাচ্ছে যে,নারায়ণগঞ্জ ৩ আসনের এমপি হীরাঝিল কমিটি করার জন্য তাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এমন প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা।
এলাকাবাসী আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থাকাকালীন সময় তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল হীরাঝিল সমাজ কল্যাণ সমিতি। ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাপক দুর্নীতি করেছে এই চক্রটি। শুধু তাই নয়, বৈষম্য বিরোধী হত্যা মামলার আসামি মুক্তার হোসেন সরকার ও দেলোয়ার হোসেন সরকার। বৈষম্য বিরোধী হত্যা মামলায় দীর্ঘদিন মুক্তার হোসেন সরকার কারাভোগ করে। তার ভাই দেলোয়ার হোসেন সরকার পলাতক থাকে। মুক্তার হোসেন সরকার জামিনে বের হয়ে এসে তার পলাতক ভাই দেলোয়ার হোসেন কে নিয়ে প্রকাশ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা বিএনপি’র এমপি আজারুল ইসলাম মান্নানের নাম ভাঙ্গিয়ে হিরাঝিল অফিস দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এলাকাবাসী আরো বলেন, রজ্জব আলীর ছেলে মুক্তার হোসেন সরকার ও তার ভাই দেলোয়ার হোসেন সরকার হত্যা মামলা থাকার পরেও কিভাবে এখনো তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা আওয়ামীলীগের দলীয় সক্রিয় নেতা ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে মানুষের উপর নির্যাতন করতো মুক্তার ও দেলোয়ার। তাই নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসির হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিমাসে হিরাঝিল সমাজ কল্যাণ সমিতি অফিস বিভিন্ন বাড়িও ফ্ল্যাট মালিক ও দোকান থেকে মাসিক চাঁদা আদায় করে। সিকিউরিটি গার্ড ও উন্নয়নের কথা বলে হীরাঝিলে মাসে কয়েক লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর এই টাকা বেশিরভাগ অংশ তথাকথিত কমিটির কয়েকজন সদসরা লুটেপুটে খেয়েছে। ৫ ই আগস্টের পর মুক্তার হোসেন সরকার ও দেলোয়ার হোসেন কিছুদিন গা ঢাকা দিলেও তারা আবারও এলাকায় এসে হিরাঝিল সমাজকল্যাণ সমিতি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে করে দেখা দিয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের ক্ষোভ ও উত্তেজনা।
বিএনপির নেতাকর্মীরা জানায়, বৈষম্য বিরোধী হত্যা মামলার আসামি মুক্তার হোসেন সরকার ও দেলোয়ার হোসেন সরকার আমাদের নারায়ণগঞ্জ ৩ আসনের এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে হিরাঝিল সমাজকল্যাণ সমিতি অফিস দখলের চেষ্টা করছে। তারা এই সমিতির টাকা পয়সা অতীতে ব্যাপক লুটপাট করেছে। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থাকাকালীন সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে তারা। সেই চক্রটি হিরাঝিলে আধিপত্য বিস্তার করছে।
আমরা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা ও হত্যা মামলার আসামী মুক্তার হোসেন সরকার ও দেলোয়ার হোসেন সরকার কিভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে?
তাদের আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মকাণ্ডের ছবি গুগলে সার্চ দিলে পাওয়া যাবে। মতলবের সাবেক মন্ত্রী মায়া চৌধুরীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন মুক্তার সরকার ও দেলোয়ার হোসেন সরকার।
বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ ৩ আসনের এমপি এই ধরনের কোন কমিটি করার জন্য অনুমতি দেয়নি বলে জানা যায়।
তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ সুপার ও থানার ওসির হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী।
উক্ত ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
উক্ত বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশনস) তারেক আল মেহেদী বলেন, হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামীদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। উক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোন অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবেনা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে অফিস দখলের চেষ্টা

আপডেট সময় ২ ঘন্টা আগে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
সিদ্ধিরগঞ্জে হিরাঝিল আবাসিক এলাকার বহু আলোচিত ও সমালোচিত হিরাঝিল সমাজ কল্যাণ সমিতি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে সিদ্ধিরগঞ্জে বৈষম্য বিরোধী হত্যা মামলার আসামি হীরাঝিল এলাকার বাসিন্দা রজ্জব আলীর ছেলে মুক্তার হোসেন সরকারও দেলোয়ার হোসেন সরকাররা। মুক্তার হোসেন সরকার ও দেলোয়ার হোসেন সরকার গংরা নারায়ণগঞ্জ ৩ আসনের এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নানের নাম ভাঙ্গিয়ে সমিতি অফিস দখলের পায়তারা করছে বলে জানায় এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানায়, গত কয়েকদিন ধরে মুক্তার হোসেন সরকার ও দেলোয়ার হোসেন সরকাররা হীরাঝিল বাসিন্দাদের জানাচ্ছে যে,নারায়ণগঞ্জ ৩ আসনের এমপি হীরাঝিল কমিটি করার জন্য তাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এমন প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা।
এলাকাবাসী আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থাকাকালীন সময় তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল হীরাঝিল সমাজ কল্যাণ সমিতি। ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাপক দুর্নীতি করেছে এই চক্রটি। শুধু তাই নয়, বৈষম্য বিরোধী হত্যা মামলার আসামি মুক্তার হোসেন সরকার ও দেলোয়ার হোসেন সরকার। বৈষম্য বিরোধী হত্যা মামলায় দীর্ঘদিন মুক্তার হোসেন সরকার কারাভোগ করে। তার ভাই দেলোয়ার হোসেন সরকার পলাতক থাকে। মুক্তার হোসেন সরকার জামিনে বের হয়ে এসে তার পলাতক ভাই দেলোয়ার হোসেন কে নিয়ে প্রকাশ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা বিএনপি’র এমপি আজারুল ইসলাম মান্নানের নাম ভাঙ্গিয়ে হিরাঝিল অফিস দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এলাকাবাসী আরো বলেন, রজ্জব আলীর ছেলে মুক্তার হোসেন সরকার ও তার ভাই দেলোয়ার হোসেন সরকার হত্যা মামলা থাকার পরেও কিভাবে এখনো তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা আওয়ামীলীগের দলীয় সক্রিয় নেতা ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে মানুষের উপর নির্যাতন করতো মুক্তার ও দেলোয়ার। তাই নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসির হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিমাসে হিরাঝিল সমাজ কল্যাণ সমিতি অফিস বিভিন্ন বাড়িও ফ্ল্যাট মালিক ও দোকান থেকে মাসিক চাঁদা আদায় করে। সিকিউরিটি গার্ড ও উন্নয়নের কথা বলে হীরাঝিলে মাসে কয়েক লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর এই টাকা বেশিরভাগ অংশ তথাকথিত কমিটির কয়েকজন সদসরা লুটেপুটে খেয়েছে। ৫ ই আগস্টের পর মুক্তার হোসেন সরকার ও দেলোয়ার হোসেন কিছুদিন গা ঢাকা দিলেও তারা আবারও এলাকায় এসে হিরাঝিল সমাজকল্যাণ সমিতি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে করে দেখা দিয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের ক্ষোভ ও উত্তেজনা।
বিএনপির নেতাকর্মীরা জানায়, বৈষম্য বিরোধী হত্যা মামলার আসামি মুক্তার হোসেন সরকার ও দেলোয়ার হোসেন সরকার আমাদের নারায়ণগঞ্জ ৩ আসনের এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে হিরাঝিল সমাজকল্যাণ সমিতি অফিস দখলের চেষ্টা করছে। তারা এই সমিতির টাকা পয়সা অতীতে ব্যাপক লুটপাট করেছে। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থাকাকালীন সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে তারা। সেই চক্রটি হিরাঝিলে আধিপত্য বিস্তার করছে।
আমরা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা ও হত্যা মামলার আসামী মুক্তার হোসেন সরকার ও দেলোয়ার হোসেন সরকার কিভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে?
তাদের আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মকাণ্ডের ছবি গুগলে সার্চ দিলে পাওয়া যাবে। মতলবের সাবেক মন্ত্রী মায়া চৌধুরীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন মুক্তার সরকার ও দেলোয়ার হোসেন সরকার।
বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ ৩ আসনের এমপি এই ধরনের কোন কমিটি করার জন্য অনুমতি দেয়নি বলে জানা যায়।
তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ সুপার ও থানার ওসির হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী।
উক্ত ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
উক্ত বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশনস) তারেক আল মেহেদী বলেন, হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামীদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। উক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোন অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবেনা।