ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তিন ‍উৎসবে প্রশাসনের দক্ষতা প্রশংসিত

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

- 1

স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কার্যকর তদারকি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে তিনটি বড় উৎসব—পবিত্র ঈদুল ফিতর, বন্দর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী লাঙ্গলবন্দ স্নান এবং মহান স্বাধীনতা দিবস। জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির ও পুলিশ সুপার মুন্সী মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে এসব আয়োজন ঘিরে কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জেলায় ২৫টি ঈদগাহ ময়দান এবং প্রায় ৪ হাজার মসজিদে মোট সাড়ে ৮ হাজার ঈদের জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। এসব ঈদগাহ ও মসজিদে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতি ছিল। সকাল থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা শহরের জামতলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহসহ বিভিন্ন স্থানে নামাজ আদায়ে অংশ নেন। ঈদের জামাতকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন।
এছাড়া ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় হাইওয়ে সড়কে যানজটমুক্ত রাখতে প্রায় ৬০০ পুলিশ, আনসার সদস্য ও কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। ফলে নির্বিঘ্নে ঈদের জামাত ও পরবর্তী উৎসবমুখর পরিবেশ উপভোগ করতে পেরেছেন নগরবাসী।
অন্যদিকে, বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে অনুষ্ঠিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাঅষ্টমী স্নান উৎসবেও ছিল দেশি-বিদেশি লাখো পুণ্যার্থীর সমাগম। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভক্তরা ব্রহ্মপুত্র নদীতে স্নান করে ধর্মীয় আচার পালন করেন।
এই উৎসব উপলক্ষে ব্রহ্মপুত্র নদের দুইধারে ২৪টি স্নানঘাটে নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ, ও কোস্টগার্ডের টহলের পাশাপাশি স্থলপথে পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও র‌্যাব মোতায়েন ছিল। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১১০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। পুণ্যার্থীদের জন্য মেডিকেল টিম ও জরুরি সেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়। সব মিলিয়ে সুশৃঙ্খল পরিবেশে শেষ হয় এ উৎসব।
এছাড়া মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন স্থানে যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা কর্মসূচি পালিত হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে চাষাঢ়া বিজয় স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তিনটি বড় আয়োজনকে সামনে রেখে আগে থেকেই সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাঠে দায়িত্ব পালন, সিসিটিভি নজরদারি, কন্ট্রোল রুম স্থাপন এবং জরুরি সেবার প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়। এতে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা সম্ভব হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এমন কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ের ফলে একসঙ্গে তিনটি বৃহৎ আয়োজন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ায় প্রশাসনের সক্ষমতা ও প্রস্তুতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জেলা প্রশাসনের দক্ষ পরিকল্পনা, পেশাদার তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রস্তুতির কারণে নারায়ণগঞ্জে একসঙ্গে তিনটি বড় উৎসব নির্বিঘ্নে ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ ধরনের সক্রিয় ও পেশাদার ভুমিকা নিশ্চিত করেছে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং আনন্দময় পরিবেশ, যা জেলাবাসীর আস্থা আরও বাড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সফল আয়োজনের মডেল হিসেবে কাজ করবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

তিন ‍উৎসবে প্রশাসনের দক্ষতা প্রশংসিত

আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে

স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কার্যকর তদারকি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে তিনটি বড় উৎসব—পবিত্র ঈদুল ফিতর, বন্দর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী লাঙ্গলবন্দ স্নান এবং মহান স্বাধীনতা দিবস। জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির ও পুলিশ সুপার মুন্সী মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে এসব আয়োজন ঘিরে কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জেলায় ২৫টি ঈদগাহ ময়দান এবং প্রায় ৪ হাজার মসজিদে মোট সাড়ে ৮ হাজার ঈদের জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। এসব ঈদগাহ ও মসজিদে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতি ছিল। সকাল থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা শহরের জামতলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহসহ বিভিন্ন স্থানে নামাজ আদায়ে অংশ নেন। ঈদের জামাতকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন।
এছাড়া ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় হাইওয়ে সড়কে যানজটমুক্ত রাখতে প্রায় ৬০০ পুলিশ, আনসার সদস্য ও কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। ফলে নির্বিঘ্নে ঈদের জামাত ও পরবর্তী উৎসবমুখর পরিবেশ উপভোগ করতে পেরেছেন নগরবাসী।
অন্যদিকে, বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে অনুষ্ঠিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাঅষ্টমী স্নান উৎসবেও ছিল দেশি-বিদেশি লাখো পুণ্যার্থীর সমাগম। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভক্তরা ব্রহ্মপুত্র নদীতে স্নান করে ধর্মীয় আচার পালন করেন।
এই উৎসব উপলক্ষে ব্রহ্মপুত্র নদের দুইধারে ২৪টি স্নানঘাটে নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ, ও কোস্টগার্ডের টহলের পাশাপাশি স্থলপথে পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও র‌্যাব মোতায়েন ছিল। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১১০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। পুণ্যার্থীদের জন্য মেডিকেল টিম ও জরুরি সেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়। সব মিলিয়ে সুশৃঙ্খল পরিবেশে শেষ হয় এ উৎসব।
এছাড়া মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন স্থানে যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা কর্মসূচি পালিত হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে চাষাঢ়া বিজয় স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তিনটি বড় আয়োজনকে সামনে রেখে আগে থেকেই সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাঠে দায়িত্ব পালন, সিসিটিভি নজরদারি, কন্ট্রোল রুম স্থাপন এবং জরুরি সেবার প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়। এতে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা সম্ভব হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এমন কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ের ফলে একসঙ্গে তিনটি বৃহৎ আয়োজন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ায় প্রশাসনের সক্ষমতা ও প্রস্তুতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জেলা প্রশাসনের দক্ষ পরিকল্পনা, পেশাদার তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রস্তুতির কারণে নারায়ণগঞ্জে একসঙ্গে তিনটি বড় উৎসব নির্বিঘ্নে ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ ধরনের সক্রিয় ও পেশাদার ভুমিকা নিশ্চিত করেছে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং আনন্দময় পরিবেশ, যা জেলাবাসীর আস্থা আরও বাড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সফল আয়োজনের মডেল হিসেবে কাজ করবে।