ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদকের বিষাক্ত ছোবল গাবতলী-ইসদাইরে রক্তের হোলিখেলা

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৫৪ মিনিট আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
ফতুল্লা থানার গাবতলী ও পার্শ্ববর্তী ইসদাইর এলাকায় মাদককে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সন্ত্রাস, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও প্রকাশ্য সহিংসতার ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি চললেও কার্যকর অভিযান না থাকায় একের পর এক সংঘবদ্ধ মাদকচক্র গড়ে উঠেছে। আর এসব চক্রের ছত্রছায়ায় কিশোর ও যুবকদের একটি বড় অংশ ভয়ংকর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। সর্বশেষ টানা দুইদিনে পৃথক ঘটনায় অন্তত সাতজনকে কুপিয়ে জখম করার পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে গাবতলীর আসেনা গার্মেন্ট মোড় এলাকায় মাদকাসক্ত এক যুবক হঠাৎ উন্মত্ত হয়ে তার ভাবীসহ পাঁচজনের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এসময় তার ভাবীর কোলের শিশুসন্তান শিমুও হামলার শিকার হয়। হামলাকারী এলোপাতাড়ি কুপিয়ে কয়েকজনকে গুরুতর জখম করে এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করে। পরে স্থানীয় লোকজন একত্রিত হয়ে তাকে আটক করে গণধোলাই দেয় এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সন্ধ্যা সাতটায় এ রিপোর্ট লিখার সময় জানা যায় শিশুটি মৃত্যু বরন করেছে।
এর আগের দিন সন্ধ্যায় গাবতলী খানকা শরীফের পেছনের সড়কে মাদকাসক্ত দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে সুফিয়ান ও নয়ন নামের দুই যুবক গুরুতর আহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে চাপাতি ও ছুরি নিয়ে উভয়পক্ষ একে অপরের উপর হামলা চালায়। এতে সুফিয়ানের পিঠে চাপাতি দিয়ে কোপ দেয়া হয় এবং তার পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়। স্থানীয়রা তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, কাপুইরাপট্টি এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নিলয়ের শেল্টারে সোয়াদ ও জহিরুলের নেতৃত্বে একটি ভয়ংকর গ্রুপ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এই গ্রুপটি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর গাবতলী ও ইসদাইরের বিভিন্ন অলিগলি কার্যত মাদকসেবীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। প্রকাশ্যেই ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদক বিক্রি হতে দেখা যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কয়েকটি গ্রুপের মধ্যে প্রায়ই দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষ হচ্ছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় অভিভাবকরা জানিয়েছেন, স্কুল-কলেজপড়ুয়া অনেক কিশোর সহজেই মাদকের সংস্পর্শে চলে যাচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীরা কৌশলে তাদের ব্যবহার করছে খুচরা বিক্রি, তথ্য আদান-প্রদান এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গাবতলী ও ইসদাইর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কয়েকজন বড় মাদক ব্যবসায়ী সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয়দের দেয়া তথ্যে যাদের নাম বারবার উঠে এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছে পেটকাটা রকি, উৎসব ওরফে উৎস, ইকবাল, মনির, মুন্না ও আবিদ। অভিযোগ রয়েছে, এদের নেতৃত্বে বিভিন্ন স্পটে ভাগাভাগি করে মাদক বিক্রি করা হয়। এলাকায় নতুন কেউ ব্যবসা করতে চাইলে তাকে চক্রগুলোর অনুমতি নিতে হয়। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই প্রায় সময় সংঘর্ষ ও রক্তপাতের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, গাবতলী ও ইসদাইর এলাকায় প্রকাশ্য মাদক ব্যবসা বন্ধে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে মাদক কারবারিদের পৃষ্ঠপোষকদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের ভাষ্য, শুধুমাত্র ছোটখাটো মাদকসেবী আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বরং যারা দীর্ঘদিন ধরে পুরো নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
এদিকে টানা সহিংস ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সন্ধ্যার পর অনেক পরিবার জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিদিন কোথাও না কোথাও মারামারি, কুপাকুপি কিংবা মাদকসেবীদের উন্মত্ত আচরণ দেখতে দেখতে তারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া না হলে গাবতলী ও ইসদাইর এলাকায় আরও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

মাদকের বিষাক্ত ছোবল গাবতলী-ইসদাইরে রক্তের হোলিখেলা

আপডেট সময় ৫৪ মিনিট আগে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
ফতুল্লা থানার গাবতলী ও পার্শ্ববর্তী ইসদাইর এলাকায় মাদককে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সন্ত্রাস, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও প্রকাশ্য সহিংসতার ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি চললেও কার্যকর অভিযান না থাকায় একের পর এক সংঘবদ্ধ মাদকচক্র গড়ে উঠেছে। আর এসব চক্রের ছত্রছায়ায় কিশোর ও যুবকদের একটি বড় অংশ ভয়ংকর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। সর্বশেষ টানা দুইদিনে পৃথক ঘটনায় অন্তত সাতজনকে কুপিয়ে জখম করার পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে গাবতলীর আসেনা গার্মেন্ট মোড় এলাকায় মাদকাসক্ত এক যুবক হঠাৎ উন্মত্ত হয়ে তার ভাবীসহ পাঁচজনের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এসময় তার ভাবীর কোলের শিশুসন্তান শিমুও হামলার শিকার হয়। হামলাকারী এলোপাতাড়ি কুপিয়ে কয়েকজনকে গুরুতর জখম করে এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করে। পরে স্থানীয় লোকজন একত্রিত হয়ে তাকে আটক করে গণধোলাই দেয় এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সন্ধ্যা সাতটায় এ রিপোর্ট লিখার সময় জানা যায় শিশুটি মৃত্যু বরন করেছে।
এর আগের দিন সন্ধ্যায় গাবতলী খানকা শরীফের পেছনের সড়কে মাদকাসক্ত দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে সুফিয়ান ও নয়ন নামের দুই যুবক গুরুতর আহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে চাপাতি ও ছুরি নিয়ে উভয়পক্ষ একে অপরের উপর হামলা চালায়। এতে সুফিয়ানের পিঠে চাপাতি দিয়ে কোপ দেয়া হয় এবং তার পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়। স্থানীয়রা তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, কাপুইরাপট্টি এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নিলয়ের শেল্টারে সোয়াদ ও জহিরুলের নেতৃত্বে একটি ভয়ংকর গ্রুপ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এই গ্রুপটি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর গাবতলী ও ইসদাইরের বিভিন্ন অলিগলি কার্যত মাদকসেবীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। প্রকাশ্যেই ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদক বিক্রি হতে দেখা যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কয়েকটি গ্রুপের মধ্যে প্রায়ই দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষ হচ্ছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় অভিভাবকরা জানিয়েছেন, স্কুল-কলেজপড়ুয়া অনেক কিশোর সহজেই মাদকের সংস্পর্শে চলে যাচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীরা কৌশলে তাদের ব্যবহার করছে খুচরা বিক্রি, তথ্য আদান-প্রদান এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গাবতলী ও ইসদাইর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কয়েকজন বড় মাদক ব্যবসায়ী সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয়দের দেয়া তথ্যে যাদের নাম বারবার উঠে এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছে পেটকাটা রকি, উৎসব ওরফে উৎস, ইকবাল, মনির, মুন্না ও আবিদ। অভিযোগ রয়েছে, এদের নেতৃত্বে বিভিন্ন স্পটে ভাগাভাগি করে মাদক বিক্রি করা হয়। এলাকায় নতুন কেউ ব্যবসা করতে চাইলে তাকে চক্রগুলোর অনুমতি নিতে হয়। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই প্রায় সময় সংঘর্ষ ও রক্তপাতের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, গাবতলী ও ইসদাইর এলাকায় প্রকাশ্য মাদক ব্যবসা বন্ধে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে মাদক কারবারিদের পৃষ্ঠপোষকদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের ভাষ্য, শুধুমাত্র ছোটখাটো মাদকসেবী আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বরং যারা দীর্ঘদিন ধরে পুরো নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
এদিকে টানা সহিংস ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সন্ধ্যার পর অনেক পরিবার জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিদিন কোথাও না কোথাও মারামারি, কুপাকুপি কিংবা মাদকসেবীদের উন্মত্ত আচরণ দেখতে দেখতে তারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া না হলে গাবতলী ও ইসদাইর এলাকায় আরও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।