স্টাফ রিপোর্টার
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা ও কৌশল নিয়ে। বিশ্লেষকদের একাংশ এই যুদ্ধকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘স্বেচ্ছায় চাপিয়ে দেওয়া সংঘাত’ হিসেবে দেখছেন, যার আইনি ভিত্তি নিয়ে রয়েছে গুরুতর প্রশ্ন।
সমালোচকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের ওপর আসন্ন হামলার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে এই সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে কতটা বৈধ—তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে বিবিসির আন্তর্জাতিক সম্পাদক জেরেমি বোয়েন তার বিশ্লেষণে ট্রাম্পের অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য—বিশেষ করে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি—আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধনীতির দৃষ্টিতে অত্যন্ত উদ্বেগজনক, এমনকি তা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।
আন্তর্জাতিক যুদ্ধনীতি অনুযায়ী, যেকোনো সামরিক অভিযানে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং হুমকির মাত্রা অনুযায়ী শক্তি প্রয়োগ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ট্রাম্পের বক্তব্য ও পদক্ষেপে এই নীতিগুলোর প্রতিফলন খুব কমই দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিশ্লেষকরা।
তেহরান ও কারাজ সংযোগকারী একটি সেতুতে মার্কিন হামলার ঘটনাটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সামগ্রিকভাবে ট্রাম্পের নীতিতে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও নিয়ম-নীতির প্রতি অনীহা স্পষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। অনেকের মতে, তার কৌশল ‘জোর যার মুল্লুক তার’—এই দর্শনের প্রতিফলন।
সম্প্রতি দেওয়া ট্রাম্পের ১৯ মিনিটের ভাষণেও তার অবস্থানের দ্রুত পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
বোয়েনের ভাষায়, এটি ‘কৌশলগত অনিশ্চয়তা’র একটি উদাহরণ—যেখানে একদিকে তিনি পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন, অন্যদিকে কার্যকর কোনো সমঝোতার দিকেও এগোতে পারছেন না।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, যদি যুক্তরাষ্ট্র স্থলবাহিনী মোতায়েন করে, তবে তা উল্টো ইরানের জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে। কারণ, ইরান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে প্রতিপক্ষকে জড়িয়ে ফেলতে আগ্রহী—যেখানে সময়ই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান শক্তি।
রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতায় দেখা গেছে, তুলনামূলক দুর্বল দেশও ‘অসম যুদ্ধে’ শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে দীর্ঘ সময় ধরে চাপে রাখতে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী ইরানের হাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকস্মিক ইরানে বিমান হামলা শুরু করে এবং তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অনেক শীর্ষ নেতাকে হত্যা করে। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত আগ্রাসনবাদী বাহিনী এক হাজার ৪০০ জনের মতো ইরানিকে হত্যা করেছে।
ওই উসকানিমূলক হামলার জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে ইরান। একইসঙ্গে তারা বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
এই হরমুজ প্রণালী ইরানের কব্জায় যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে বেকায়দায় পড়েছে। তাদের ওপর আরব ও ইউরোপীয় অঞ্চলের মিত্রদের চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র বলপ্রয়োগের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী উদ্ধার করতে ইউরোপীয়দের যুদ্ধে ডাকলেও সাড়া পাচ্ছে না।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানির মতো দেশগুলোর নেতারা বলছেন, এই যুদ্ধ তাদের নয়। এমনকি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কম কথা বলারও পরামর্শ দিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে শুক্রবার ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আরও কিছুটা সময় পেলে আমরা খুব সহজেই হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করতে পারি। (সেখানকার) তেল দখল করে আমরা প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারি। এটি কি বিশ্বের জন্য একটি তেলের খনি হবে না?’
সংবাদ শিরোনাম ::
গোলাগুলির ঘটনায় যুবদল আহ্বায়ক বহিষ্কার
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান যা করছে তা চুক্তিতে নেই: ট্রাম্প
হিজবুল্লাহ প্রধানের ঘনিষ্ঠ সহকারীকে হত্যার দাবি ইসরাইলের
বাঁচার জন্য লড়ছে শিশু ইমরান
১১ দলের বিক্ষোভ
কোরআনের আলোকে জীবন গড়তে হবে
ইউএনওর তত্ত্বাবধানে তেল বিক্রি
আসামি পলায়ন, সেই এসআই পুনর্বহাল!
আবু সাঈদ হত্যায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড
খুনোখুনি ঠেকাতে প্রশাসনের গরজ নেই–এমপি আল আমিন
নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছেন না ট্রাম্প
-
ডেস্ক : - আপডেট সময় ১২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
- ১০ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ





















