ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদক ব্যবসায়ীদের ‘গডফাদার’ ছাত্রদলের মাসুম বিল্লাহ!

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ১২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া ও নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক অডিও ও ভিডিও ক্লিপে তার মাদক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রাথমিক তদন্তে এসব ভিডিও ও অডিওর সত্যতা পেয়েছে বলে জানা গেছে।
একটি ভিডিওতে একজন মাদক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, এলাকায় নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা পরিচালনার জন্য মাসুম বিল্লাহ ও তার সহযোগীদের পাঁচটি মোটরসাইকেল দিতে হয়েছে। এছাড়া প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা না দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরিয়ে দেওয়া কিংবা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলেও ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাসুম বিল্লাহর ছত্রছায়ায় এলাকায় একটি বিশাল ক্যাডার ও চাঁদাবাজ গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য হিসেবে রাসেল, হানিফ, উত্তরপাড়ার রতন, ইসমাইল প্রধান, সোহেল, ভাগিনা সেলিম ও আবাহনী এর নাম উঠে এসেছে। এই চক্রটি এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও চাঁদা আদায়ের মূল কারিগর হিসেবে কাজ করে।
একটি ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপে একজন মাদক ব্যবসায়ীকে বলতে শোনা যায়, ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে প্রতি মাসে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেন মাসুম বিল্লাহ। প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার মতো এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করেছে।
জানা গেছে, মাসুম বিল্লাহ বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী হওয়ার দৌঁড়ে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলায় দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন— যেখানে দলের হাইকমান্ড মাদক নির্মূলের কঠোর ঘোষণা দিয়েছে, সেখানে মাদকের ‘শেল্টারদাতা’ হিসেবে পরিচিত কেউ নেতৃত্বে এলে সংগঠনের আদর্শ কতটুকু রক্ষা পাবে?
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, তথ্য-প্রমাণগুলো যাচাই করা হচ্ছে এবং অপরাধী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

মাদক ব্যবসায়ীদের ‘গডফাদার’ ছাত্রদলের মাসুম বিল্লাহ!

আপডেট সময় ১২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া ও নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক অডিও ও ভিডিও ক্লিপে তার মাদক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রাথমিক তদন্তে এসব ভিডিও ও অডিওর সত্যতা পেয়েছে বলে জানা গেছে।
একটি ভিডিওতে একজন মাদক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, এলাকায় নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা পরিচালনার জন্য মাসুম বিল্লাহ ও তার সহযোগীদের পাঁচটি মোটরসাইকেল দিতে হয়েছে। এছাড়া প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা না দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরিয়ে দেওয়া কিংবা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলেও ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাসুম বিল্লাহর ছত্রছায়ায় এলাকায় একটি বিশাল ক্যাডার ও চাঁদাবাজ গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য হিসেবে রাসেল, হানিফ, উত্তরপাড়ার রতন, ইসমাইল প্রধান, সোহেল, ভাগিনা সেলিম ও আবাহনী এর নাম উঠে এসেছে। এই চক্রটি এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও চাঁদা আদায়ের মূল কারিগর হিসেবে কাজ করে।
একটি ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপে একজন মাদক ব্যবসায়ীকে বলতে শোনা যায়, ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে প্রতি মাসে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেন মাসুম বিল্লাহ। প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার মতো এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করেছে।
জানা গেছে, মাসুম বিল্লাহ বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী হওয়ার দৌঁড়ে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলায় দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন— যেখানে দলের হাইকমান্ড মাদক নির্মূলের কঠোর ঘোষণা দিয়েছে, সেখানে মাদকের ‘শেল্টারদাতা’ হিসেবে পরিচিত কেউ নেতৃত্বে এলে সংগঠনের আদর্শ কতটুকু রক্ষা পাবে?
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, তথ্য-প্রমাণগুলো যাচাই করা হচ্ছে এবং অপরাধী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।