স্টাফ রিপোর্টার
বর্তমান বাজারে গ্যাস ও বিদ্যুতের উচ্চমূল্য বৃদ্ধি ও পাশা পাশি ডাইং শিল্পের প্রধান কাঁচামাল রং, ক্যামিকেল, লবন ও সোডার দাম অস্বাভাবিক লাগামহীন বৃদ্ধিতে দেশের দ্বিতীয় বৃহতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জণকারী খাত নীট ডাইং শিল্পকে ধ্বংশের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাওয়ায় পোষাক শিল্পের বহু মালিক দিশেহারা। পোষাক উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারনে ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার নেওয়া যাচ্ছেনা। অতিরিক্ত শুল্কের চাপ, বিশেষ প্রনোদনার অভাব ও ব্যাংকিং সুবিধা সময়মত না পাওয়ায় ডাইং সহ পোষাক শিল্পের বহু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোষাকশিল্প পিছেয়ে পড়ছে।
ডাইং শিল্পের বহুরকম সমস্যা সমাদানের তাগিদে এবং ডাইং চার্জ বৃদ্ধি করে পুনঃনির্ধরণ করার বিষয়ে গত ৮ এপ্রিল ২০২৬ বাংলাদেশ নীট ডাইং ওনার্স এসোসিয়েশন (বিকেডিওএ) এর আয়োজনে নারায়নগঞ্জ নিজ কার্যালয়ে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিকেডিওএ এর সভাপতি সৈয়দ মো.আমজাদ হোসেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি জিএম হায়দার আলী বাবলু, পরিচালকদের মধ্যে ছিলেন কে এম নূরুল ইসলাম বাবু, মো.অহিদুল ইসলাম সহিদ, মো.মহসীন রাব্বানী, মো. মিজানুর রহমান সহ অনেকে।
ডাইং মালিক প্রত্যেকেই গভীর উদ্বেগের সাথে জানান গ্যাস, বিদ্যুৎ এর মূল্য দফায়-দফায় বৃদ্ধি, ডাইং লবনের দাম কয়েকগুন বৃদ্ধি, ক্যামিক্যালের মূল্য নিয়ন্ত্রনহীন বৃদ্ধি, একইভাবে সোডা অ্যাশ, হাইড্রোস এবং বিভিন্ন আমদানীকৃত রং ও ক্যামিক্যালের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় মূল্য বৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নানারকম জটিলতা, বক্তরা আরো জানান ডাইং মেশিনারিজ ও যন্ত্রাংশের মুল্য কোথয়ও ২০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্রমিকের মজুরী নিয়ে নানা টানপোড়ন চলছে। নানাভাবে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও স্থানীয় ্এবং বিদেশী ক্রেতার কাছ থেকে সে পরিমান মূল্য পাওয়া যাচ্ছেনা, এমনকি সরকারের নানারকম নীতিমালা মালিকদের হতাশা করে তুলছে। বিশ্ব পতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার কারনে নিকটবর্তী দেশে ক্রেতারা চলে যাচ্ছে। এইভাবে চলতে থাকলে অচিরেই শিল্প-প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। ডাইং চার্য বৃদ্ধি বিষয়ে প্রত্যেক মালিকই দাবি জানান এবং সার্বিক সমস্যা নিরসনের জন্য সরকারের কাছে জোড় দাবি করার জন্য প্রস্তাবনা আকারে উপস্থাপন করা হয়। যেমনঃ ০১- ডাইং শিল্পের জন্য গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করা। ০২-ডাইং শিল্পের ব্যবহারে গ্লোবার সল্ট বানিজ্যিক ভাবে আমদানির অনুমতি দিতে হবে। ০৩-ডাইং ক্যামিকেল, রং,ও লবনের বাজার সিন্ডিকেট রুকতে কঠোর মনিটরিং করতে হবে। ০৪-কাচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড় দিতে হবে। ০৫-ব্যাংক ্ঋনের সুদের হার কমাতে হবে এবং ০৬-বিশেষ প্রনোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। সভাপতির বক্তবে সৈয়দ মো.আমজাদ হোসেন বলেন আমিও আপনাদের সাথে একমত সবগুলি বিষয়ই যৌক্তিক তবে সর্বপ্রথম ডাইং চার্য বৃদ্ধি করে পূননির্ধারণ করতে হবে, পর্যায় ক্রমে প্রতিটি দাবিই সরকার সহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে বসে সমাদানের ব্যবস্থা করা হবে।

ডেস্ক : 



















