ঢাকা , সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিল্পনগরী হয়েও ‘বি’ ক্যাটাগরিতে

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত নারায়ণগঞ্জ। এক সময় পাটশিল্পের জন্য খ্যাত এই জেলা এখন গার্মেন্টস, নিটওয়্যার, ডাইং-প্রিন্টিংসহ বিভিন্ন শিল্পখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। লাখো মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার কারণে ব্যবসায়ীরা নারায়ণগঞ্জকে দেশের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না প্রশাসনিক মূল্যায়ন—এখনও জেলা ‘বি’ ক্যাটাগরিতেই রয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ‘বি’ ক্যাটাগরি শুধু একটি নামমাত্র শ্রেণিবিন্যাস নয়; এর সঙ্গে জড়িত উন্নয়ন বাজেট, অবকাঠামোগত পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা। ফলে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও নারায়ণগঞ্জ কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে কথা বলে আসছেন। তার মতে, দেশের অর্থনীতিতে এত বড় অবদান রাখা একটি জেলাকে প্রশাসনিকভাবে পিছিয়ে রাখা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি মনে করেন, নারায়ণগঞ্জকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করা হলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি (অর্থ) মোরশেদ সারোয়ার সোহেলও একই মত পোষণ করেন। তিনি বলেন, উচ্চতর ক্যাটাগরি মানে শুধু মর্যাদা নয়—এটি সরাসরি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিল্পের সম্প্রসারণের সঙ্গে জড়িত। বর্তমান অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ তার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না।
জেলার বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালেও সেই চিত্র স্পষ্ট হয়। শহরের প্রধান সড়কগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে যানজট, ফুটপাত দখল, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং জলাবদ্ধতা নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে নদী দূষণও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে জনসংখ্যার তুলনায় স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো এখনও অপর্যাপ্ত।
তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বড় অঙ্কের অর্থায়ন অনুমোদন এই জেলার গুরুত্বকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন জেলাকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করার নজির থাকায় নারায়ণগঞ্জ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মতে, অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই জেলাকে আর পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই। দ্রুত ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করা হলে শুধু অবকাঠামো নয়, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।
তাদের ভাষায়, “যে জেলা দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে, সেই জেলাকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়াই সময়ের দাবি।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

শিল্পনগরী হয়েও ‘বি’ ক্যাটাগরিতে

আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত নারায়ণগঞ্জ। এক সময় পাটশিল্পের জন্য খ্যাত এই জেলা এখন গার্মেন্টস, নিটওয়্যার, ডাইং-প্রিন্টিংসহ বিভিন্ন শিল্পখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। লাখো মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার কারণে ব্যবসায়ীরা নারায়ণগঞ্জকে দেশের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না প্রশাসনিক মূল্যায়ন—এখনও জেলা ‘বি’ ক্যাটাগরিতেই রয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ‘বি’ ক্যাটাগরি শুধু একটি নামমাত্র শ্রেণিবিন্যাস নয়; এর সঙ্গে জড়িত উন্নয়ন বাজেট, অবকাঠামোগত পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা। ফলে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও নারায়ণগঞ্জ কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে কথা বলে আসছেন। তার মতে, দেশের অর্থনীতিতে এত বড় অবদান রাখা একটি জেলাকে প্রশাসনিকভাবে পিছিয়ে রাখা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি মনে করেন, নারায়ণগঞ্জকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করা হলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি (অর্থ) মোরশেদ সারোয়ার সোহেলও একই মত পোষণ করেন। তিনি বলেন, উচ্চতর ক্যাটাগরি মানে শুধু মর্যাদা নয়—এটি সরাসরি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিল্পের সম্প্রসারণের সঙ্গে জড়িত। বর্তমান অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ তার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না।
জেলার বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালেও সেই চিত্র স্পষ্ট হয়। শহরের প্রধান সড়কগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে যানজট, ফুটপাত দখল, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং জলাবদ্ধতা নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে নদী দূষণও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে জনসংখ্যার তুলনায় স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো এখনও অপর্যাপ্ত।
তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বড় অঙ্কের অর্থায়ন অনুমোদন এই জেলার গুরুত্বকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন জেলাকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করার নজির থাকায় নারায়ণগঞ্জ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মতে, অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই জেলাকে আর পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই। দ্রুত ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করা হলে শুধু অবকাঠামো নয়, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।
তাদের ভাষায়, “যে জেলা দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে, সেই জেলাকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়াই সময়ের দাবি।”