ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কঠোর হচ্ছে নাসিক-প্রশাসন

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় এক ঘন্টা আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত রাখা ও নগরবাসীর নির্বিঘ্নে হাঁটার সুবিধার্থে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। নাসিকের এক সাধারণ সভায় নগর কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে একটি দল সপ্তাহে প্রতিদিন শহরের সড়কগুলোতে অভিযান চালাবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আগামী রোববার (২৬ এপ্রিল) থেকে এ অভিযানিক দলের নেতৃত্বে থাকবেন একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তাকে সহযোগিতা করবেন জেলা পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ কর্মীরা।
ফুটপাত হকারমুক্ত রাখার সিদ্ধান্তে নগর কর্তৃপক্ষ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছে বলেও জানিয়েছেন সিটি প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি বলেন, “হকার কোনোভাবেই ফুটপাতে বসতে পারবে না। নগরবাসীর চলার পথে বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। এজন্য সমন্বিত টিম করা হবে এবং প্রতিদিন অভিযান চলবে।”
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পঞ্চম তলায় সম্মেলন কক্ষে মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় নগরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়। যার মধ্যে বিদ্যমান হকার উচ্ছেদ ও তা নিয়ে উদ্ভূত সংকট বিষয়েও আলোচনা হয়। ওই সময় হকার ইস্যুতে সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
সিটি প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নূর কুতুবুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সোহেল রানা, নাসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজগর হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী ইসমাইল চৌধুরী, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারিকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।
এ সভায় হকারমুক্ত ফুটপাত, নগরীতে পানি সরবরাহ কাজের উন্নতিতে নতুন উদ্যোগ, গৃহস্থালি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন ও হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের সফলতা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সিটি কর্পোরেশন সূত্র বলছে, হকার ইস্যুতে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শহরের প্রধান সড়কে হকারদের বসতে দেওয়া হবে না। গত ১৩ এপ্রিল হকার উচ্ছেদ করা হলেও কয়েকটি জায়গায় হকাররা বসার চেষ্টা করছেন। যদিও উচ্ছেদ কর্মীদের নিয়মিত কার্যক্রমের কারণে তারা স্থায়ীভাবে বসতে পারছে না। ফুটপাত সম্পূর্ণ হকারমুক্ত রাখার জন্য সমন্বিত টিম গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে সাধারণ সভায়।
সভাশেষে সিটি প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “আজকে সভায় জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও অন্যান্য দপ্তরের লোকজন ছিলেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে- সপ্তাহে প্রতিদিন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ, সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ কর্মীরা অভিযান চালাবে। শুধু টহল না উপযোগী অভিযান হবে।”
“এখন কাপড় বিছায়ে বসে, আর উচ্ছেদের গাড়ি দেখলে চারকোনা গুছিয়ে গলির ভেতরে ঢুকে যায়। গাড়ি চলে গেলে আবার ফুটপাতে এসে বসে। এইটাও যাতে করতে না পারে, সেজন্য গলির ভেতরে গিয়েও ধরা হবে। একই কাজ একাধিক করলে গ্রেপ্তারও করা হবে।”
প্রশাসক হিসেবে যতদিন দায়িত্বে আছেন ততদিন হকার ইস্যুতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

কঠোর হচ্ছে নাসিক-প্রশাসন

আপডেট সময় এক ঘন্টা আগে

স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত রাখা ও নগরবাসীর নির্বিঘ্নে হাঁটার সুবিধার্থে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। নাসিকের এক সাধারণ সভায় নগর কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে একটি দল সপ্তাহে প্রতিদিন শহরের সড়কগুলোতে অভিযান চালাবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আগামী রোববার (২৬ এপ্রিল) থেকে এ অভিযানিক দলের নেতৃত্বে থাকবেন একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তাকে সহযোগিতা করবেন জেলা পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ কর্মীরা।
ফুটপাত হকারমুক্ত রাখার সিদ্ধান্তে নগর কর্তৃপক্ষ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছে বলেও জানিয়েছেন সিটি প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি বলেন, “হকার কোনোভাবেই ফুটপাতে বসতে পারবে না। নগরবাসীর চলার পথে বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। এজন্য সমন্বিত টিম করা হবে এবং প্রতিদিন অভিযান চলবে।”
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পঞ্চম তলায় সম্মেলন কক্ষে মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় নগরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়। যার মধ্যে বিদ্যমান হকার উচ্ছেদ ও তা নিয়ে উদ্ভূত সংকট বিষয়েও আলোচনা হয়। ওই সময় হকার ইস্যুতে সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
সিটি প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নূর কুতুবুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সোহেল রানা, নাসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজগর হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী ইসমাইল চৌধুরী, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারিকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।
এ সভায় হকারমুক্ত ফুটপাত, নগরীতে পানি সরবরাহ কাজের উন্নতিতে নতুন উদ্যোগ, গৃহস্থালি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন ও হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের সফলতা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সিটি কর্পোরেশন সূত্র বলছে, হকার ইস্যুতে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শহরের প্রধান সড়কে হকারদের বসতে দেওয়া হবে না। গত ১৩ এপ্রিল হকার উচ্ছেদ করা হলেও কয়েকটি জায়গায় হকাররা বসার চেষ্টা করছেন। যদিও উচ্ছেদ কর্মীদের নিয়মিত কার্যক্রমের কারণে তারা স্থায়ীভাবে বসতে পারছে না। ফুটপাত সম্পূর্ণ হকারমুক্ত রাখার জন্য সমন্বিত টিম গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে সাধারণ সভায়।
সভাশেষে সিটি প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “আজকে সভায় জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও অন্যান্য দপ্তরের লোকজন ছিলেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে- সপ্তাহে প্রতিদিন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ, সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ কর্মীরা অভিযান চালাবে। শুধু টহল না উপযোগী অভিযান হবে।”
“এখন কাপড় বিছায়ে বসে, আর উচ্ছেদের গাড়ি দেখলে চারকোনা গুছিয়ে গলির ভেতরে ঢুকে যায়। গাড়ি চলে গেলে আবার ফুটপাতে এসে বসে। এইটাও যাতে করতে না পারে, সেজন্য গলির ভেতরে গিয়েও ধরা হবে। একই কাজ একাধিক করলে গ্রেপ্তারও করা হবে।”
প্রশাসক হিসেবে যতদিন দায়িত্বে আছেন ততদিন হকার ইস্যুতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।