ঢাকা , মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্দর ইউপি চেয়ারম্যানের দুর্নীতি তদন্তে মাঠে দুদক

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৭ ঘন্টা আগে
  • ১ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসানের দুর্নীতি তদন্তে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। গতকাল সোমবার দুপুরে দুদকের টিম বন্দরের নবীগঞ্জ বাস স্ট্যান্ডে রেলের সরকারি জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার তদন্তে আসেন দুদুক টিম।
দুদকের উপ পরিচালক সাবিকুন্নাহর পারুল ও তার সিভিল সহকারী মিজানুর রহমান সাথে পুলিশ নিয়ে নবীগঞ্জ বাস স্ট্যান্ডে রেলের জমিতে গড়ে উঠা স্থাপনার বিষয়ে তদন্ত করেন। অভিযোগ রয়েছে, নবীগঞ্জ বাস স্ট্যান্ডে রেলে জমি দখল করে শতাধিক সেমি পাকা দোকান ঘর নির্মান করে বিভিন্ন জনের কাছে ভাড়া দিয়ে মাসে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
চেয়ারম্যান এহসানের সাথে দোকানী তাজুল ইসলামের এক চুক্তিপত্র দলিলে দেখা যায়, চেয়ারম্যান এহসান নগদ ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে মাসে সাড়ে ৫ হাজার টাকায় দোকান ভাড়া দেন। এ বিষয়টি দুদকের নজরে আসলে দুদক সরে জমিনে তদন্তে নামেন। এ ব্যপারে দুদকের উপ পরিচালক সাবিকুন্নাহার পারুল বলেন, সরকারি জমিতে অবৈধ ভাবে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে যাচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন। কিন্তু তার নামে রেলের জমির কোন লীজ নেই।
১৯৯৫ সাল থেকে এ জমির লীজ রয়েছে রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেনর স্ত্রী সুলতানা নিলুফার নামে। কিন্তু তিনি লীজকৃত জমির দখল না পেয়ে দুদকে অভিযোগ করেন। দুদকের তদন্তে সরকারি জমি দখল করে দোকান ভাড়া দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার প্রমাণ পাওয়ায় দুদক এর আগে এহসান চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা আদায়ের জন্য হাইকোটে পিটিশন দায়ের করেন। এ ব্যপারে এহসান চেয়ারম্যানকে ফোন দিলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে তার ম্যানেজার আশ্রাব উদ্দিনের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, আমরা রেলের কাছে বাণিজ্যিক লীজের জন্য আবেদন করেছি। পরে অফিসে এসে কথা বইলেন। এ বিষয়ে এক ব্যবসায়ী নাজির বলেন, আমিও ৯৫ সালে রেলের কাছ থেকে কৃষি লীজ নিয়েছি। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ আমাকে ও সুলতানা নিলুফাকে একই জমি লীজ দিয়েছে।
এ ব্যপারে রেলওয়ের স্টেট অফিসার শিশুল কুমার দাস বলেন, নাজির ও নিলুফা বেগম নামে দুই জনের লীজ বাতিল করা হয়েছে। তারা কৃষি লীজ নিয়ে বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবহার করায় তাদের লীজ বাতিল করা হয়। কিন্তু রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান সুলতানা নিলুফার লীজ এখনো বহাল রয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

বন্দর ইউপি চেয়ারম্যানের দুর্নীতি তদন্তে মাঠে দুদক

আপডেট সময় ৭ ঘন্টা আগে

স্টাফ রিপোর্টার
বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসানের দুর্নীতি তদন্তে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। গতকাল সোমবার দুপুরে দুদকের টিম বন্দরের নবীগঞ্জ বাস স্ট্যান্ডে রেলের সরকারি জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার তদন্তে আসেন দুদুক টিম।
দুদকের উপ পরিচালক সাবিকুন্নাহর পারুল ও তার সিভিল সহকারী মিজানুর রহমান সাথে পুলিশ নিয়ে নবীগঞ্জ বাস স্ট্যান্ডে রেলের জমিতে গড়ে উঠা স্থাপনার বিষয়ে তদন্ত করেন। অভিযোগ রয়েছে, নবীগঞ্জ বাস স্ট্যান্ডে রেলে জমি দখল করে শতাধিক সেমি পাকা দোকান ঘর নির্মান করে বিভিন্ন জনের কাছে ভাড়া দিয়ে মাসে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
চেয়ারম্যান এহসানের সাথে দোকানী তাজুল ইসলামের এক চুক্তিপত্র দলিলে দেখা যায়, চেয়ারম্যান এহসান নগদ ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে মাসে সাড়ে ৫ হাজার টাকায় দোকান ভাড়া দেন। এ বিষয়টি দুদকের নজরে আসলে দুদক সরে জমিনে তদন্তে নামেন। এ ব্যপারে দুদকের উপ পরিচালক সাবিকুন্নাহার পারুল বলেন, সরকারি জমিতে অবৈধ ভাবে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে যাচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন। কিন্তু তার নামে রেলের জমির কোন লীজ নেই।
১৯৯৫ সাল থেকে এ জমির লীজ রয়েছে রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেনর স্ত্রী সুলতানা নিলুফার নামে। কিন্তু তিনি লীজকৃত জমির দখল না পেয়ে দুদকে অভিযোগ করেন। দুদকের তদন্তে সরকারি জমি দখল করে দোকান ভাড়া দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার প্রমাণ পাওয়ায় দুদক এর আগে এহসান চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা আদায়ের জন্য হাইকোটে পিটিশন দায়ের করেন। এ ব্যপারে এহসান চেয়ারম্যানকে ফোন দিলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে তার ম্যানেজার আশ্রাব উদ্দিনের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, আমরা রেলের কাছে বাণিজ্যিক লীজের জন্য আবেদন করেছি। পরে অফিসে এসে কথা বইলেন। এ বিষয়ে এক ব্যবসায়ী নাজির বলেন, আমিও ৯৫ সালে রেলের কাছ থেকে কৃষি লীজ নিয়েছি। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ আমাকে ও সুলতানা নিলুফাকে একই জমি লীজ দিয়েছে।
এ ব্যপারে রেলওয়ের স্টেট অফিসার শিশুল কুমার দাস বলেন, নাজির ও নিলুফা বেগম নামে দুই জনের লীজ বাতিল করা হয়েছে। তারা কৃষি লীজ নিয়ে বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবহার করায় তাদের লীজ বাতিল করা হয়। কিন্তু রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান সুলতানা নিলুফার লীজ এখনো বহাল রয়েছে।