ঢাকা , রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মৃতপ্রায় শীতলক্ষ্যা নদী পুনরুদ্ধারের দাবি

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ২ ঘন্টা আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
বর্ষা এলেই টইটম্বুর হয়ে ওঠে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী। নদীর পানিতে নতুন প্রাণ, দুই পাড়ে নৌকা আর জেলের জাল সব মিলিয়ে যেন ফিরে আসে নদীর পুরনো রূপ। কিন্তু নদী ভরা পানি আর দৃশ্যমান সৌন্দর্যের আড়ালে কঠিন বাস্তবতা নদীর নিত্যদিনের দূষণ। বিশেষ করে শীতলক্ষ্যার দুই পাড়জুড়ে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিল্প-কারখানার বর্জ্য প্রতিনিয়ত মিলছে নদীর জলে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্ষাকালীন পানির প্রবাহে এই দূষণ কিছুটা আড়ালে থাকলেও, সারা বছরই নদীর পানিতে কালো রঙ, দুর্গন্ধ ও তৈলাক্ত স্তরের অস্তিত্ব থাকে।
ফতুল্লা, পাগলা, চাষাঢ়া, বন্দর ও সোনারগাঁ এলাকার আশপাশে থাকা কারখানাগুলোর অনেকেই বর্জ্য শোধন ছাড়াই তা নদীতে ফেলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকার শীতলক্ষ্যা পাড়ের বাসিন্দা ও স্থানীয় জেলে মো. আলম বলেন, একসময় আমরা দিনে অন্তত এক-দুই কেজি মাছ পাইতাম। এখন পানির রঙ দেখে জালই ফেলতে ইচ্ছা করে না। মাছ নাই, পানিতেও গন্ধ।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত ৫ বছরে একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও, নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। অধিকাংশ কারখানায় ইটিপি কাগজে থাকলেও বাস্তবে তা বন্ধ বা অকার্যকর।
গত ৫ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে অবস্থিত ২০টি কারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোঃ আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ। ইটিপি ছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে পরিবেশবাদীরা জানান শুধু অভিযান চালিয়ে লাভ নেই, চাই স্থায়ী সমাধান। নদী বাঁচলে শহর বাঁচবে এটাই এখন সবচেয়ে বড় সত্য।
পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের কর্মী আরিফ বুলবুল জানান, নদী রক্ষা করতে না পারলে আমাদেরও রক্ষা হবে না। আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে ও সচেতন হতে হবে। সর্বোপরি সরকারকে কঠোর হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নদীর স্বাভাবিক জীবনধারা ফিরিয়ে আনতে হলে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে অবৈধ বর্জ্য নিষ্কাশন বন্ধ, ইটিপির কার্যকারিতা নিশ্চিত, নদী তীর দখলমুক্ত করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি।
নদী পাড়ের বাসিন্দারা জানান নদীর রূপ বর্ষায় ফিরলেও প্রাণ ফিরিয়ে আনতে দরকার সারা বছর কার্যকর তদারকি ও আইন প্রয়োগ। অন্যথায় এক সময় শুধু মানচিত্রেই থাকবে শীতলক্ষ্যা নাম।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

মৃতপ্রায় শীতলক্ষ্যা নদী পুনরুদ্ধারের দাবি

আপডেট সময় ২ ঘন্টা আগে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
বর্ষা এলেই টইটম্বুর হয়ে ওঠে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী। নদীর পানিতে নতুন প্রাণ, দুই পাড়ে নৌকা আর জেলের জাল সব মিলিয়ে যেন ফিরে আসে নদীর পুরনো রূপ। কিন্তু নদী ভরা পানি আর দৃশ্যমান সৌন্দর্যের আড়ালে কঠিন বাস্তবতা নদীর নিত্যদিনের দূষণ। বিশেষ করে শীতলক্ষ্যার দুই পাড়জুড়ে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিল্প-কারখানার বর্জ্য প্রতিনিয়ত মিলছে নদীর জলে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্ষাকালীন পানির প্রবাহে এই দূষণ কিছুটা আড়ালে থাকলেও, সারা বছরই নদীর পানিতে কালো রঙ, দুর্গন্ধ ও তৈলাক্ত স্তরের অস্তিত্ব থাকে।
ফতুল্লা, পাগলা, চাষাঢ়া, বন্দর ও সোনারগাঁ এলাকার আশপাশে থাকা কারখানাগুলোর অনেকেই বর্জ্য শোধন ছাড়াই তা নদীতে ফেলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকার শীতলক্ষ্যা পাড়ের বাসিন্দা ও স্থানীয় জেলে মো. আলম বলেন, একসময় আমরা দিনে অন্তত এক-দুই কেজি মাছ পাইতাম। এখন পানির রঙ দেখে জালই ফেলতে ইচ্ছা করে না। মাছ নাই, পানিতেও গন্ধ।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত ৫ বছরে একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও, নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। অধিকাংশ কারখানায় ইটিপি কাগজে থাকলেও বাস্তবে তা বন্ধ বা অকার্যকর।
গত ৫ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে অবস্থিত ২০টি কারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোঃ আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ। ইটিপি ছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে পরিবেশবাদীরা জানান শুধু অভিযান চালিয়ে লাভ নেই, চাই স্থায়ী সমাধান। নদী বাঁচলে শহর বাঁচবে এটাই এখন সবচেয়ে বড় সত্য।
পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের কর্মী আরিফ বুলবুল জানান, নদী রক্ষা করতে না পারলে আমাদেরও রক্ষা হবে না। আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে ও সচেতন হতে হবে। সর্বোপরি সরকারকে কঠোর হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নদীর স্বাভাবিক জীবনধারা ফিরিয়ে আনতে হলে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে অবৈধ বর্জ্য নিষ্কাশন বন্ধ, ইটিপির কার্যকারিতা নিশ্চিত, নদী তীর দখলমুক্ত করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি।
নদী পাড়ের বাসিন্দারা জানান নদীর রূপ বর্ষায় ফিরলেও প্রাণ ফিরিয়ে আনতে দরকার সারা বছর কার্যকর তদারকি ও আইন প্রয়োগ। অন্যথায় এক সময় শুধু মানচিত্রেই থাকবে শীতলক্ষ্যা নাম।