ঢাকা , শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উর্ধ্বমুখী সবজি-মুরগির বাজার

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় এক ঘন্টা আগে
  • ১ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
সপ্তাহের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জের কাঁচাবাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সবজির দাম বাড়ার পাশাপাশি মুরগির বাজারেও কমেনি দামের চাপ। এতে নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) শহরের দিগুবাবুর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বিক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি সংকট ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে এসে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বর্তমানে গ্রীষ্মকালীন অধিকাংশ সবজির দাম ১০০ টাকার আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। বরবটি, করলা, পটল, কচুর লতি, কচুরমুখী, সাজনা ও ক্যাপসিকাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন প্রকারভেদে ৮০ থেকে ১২০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৭০-৮০ টাকা এবং ধুন্দল ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এছাড়া মৌসুম শেষ হওয়ায় টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজিতে, সিম ৭০-৮০ টাকা এবং লাউ প্রতি পিস ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চাষাঢ়া এলাকার এক সবজি বিক্রেতা জানান, “সবজির পাল্লা (৫ কেজি) ৪০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবহন খরচ বাড়ায় আমাদের কেনা দামই বেশি পড়ছে। তাই ১০০ টাকার নিচে বিক্রি করা কঠিন হয়ে গেছে।”
সবজির পাশাপাশি মুরগির বাজারেও দামের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। সোনালি মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে সোনালি কক ৪২০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ৩৮০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগি কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৭৪০ টাকা কেজি।
তবে গরু ও খাসির মাংসের দামে তেমন পরিবর্তন আসেনি। গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। ইলিশের দাম এখনও চড়া। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রামের ইলিশ ২০০০ থেকে ২২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছ ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং দেশি শিং বা মাগুর মাছ ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
ডিমের বাজারেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি রয়েছে। লাল ডিমের ডজন ১১০-১২০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ২০০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে আলুর দাম কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে ক্রেতাদের—২০ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন, আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের অভিযোগ, পরিবহন খরচ বৃদ্ধির অজুহাতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দাম বাড়াচ্ছে।
সচেতন মহল মনে করছে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তা না হলে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

উর্ধ্বমুখী সবজি-মুরগির বাজার

আপডেট সময় এক ঘন্টা আগে

স্টাফ রিপোর্টার
সপ্তাহের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জের কাঁচাবাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সবজির দাম বাড়ার পাশাপাশি মুরগির বাজারেও কমেনি দামের চাপ। এতে নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) শহরের দিগুবাবুর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বিক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি সংকট ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে এসে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বর্তমানে গ্রীষ্মকালীন অধিকাংশ সবজির দাম ১০০ টাকার আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। বরবটি, করলা, পটল, কচুর লতি, কচুরমুখী, সাজনা ও ক্যাপসিকাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন প্রকারভেদে ৮০ থেকে ১২০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৭০-৮০ টাকা এবং ধুন্দল ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এছাড়া মৌসুম শেষ হওয়ায় টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজিতে, সিম ৭০-৮০ টাকা এবং লাউ প্রতি পিস ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চাষাঢ়া এলাকার এক সবজি বিক্রেতা জানান, “সবজির পাল্লা (৫ কেজি) ৪০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবহন খরচ বাড়ায় আমাদের কেনা দামই বেশি পড়ছে। তাই ১০০ টাকার নিচে বিক্রি করা কঠিন হয়ে গেছে।”
সবজির পাশাপাশি মুরগির বাজারেও দামের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। সোনালি মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে সোনালি কক ৪২০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ৩৮০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগি কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৭৪০ টাকা কেজি।
তবে গরু ও খাসির মাংসের দামে তেমন পরিবর্তন আসেনি। গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। ইলিশের দাম এখনও চড়া। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রামের ইলিশ ২০০০ থেকে ২২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছ ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং দেশি শিং বা মাগুর মাছ ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
ডিমের বাজারেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি রয়েছে। লাল ডিমের ডজন ১১০-১২০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ২০০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে আলুর দাম কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে ক্রেতাদের—২০ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন, আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের অভিযোগ, পরিবহন খরচ বৃদ্ধির অজুহাতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দাম বাড়াচ্ছে।
সচেতন মহল মনে করছে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তা না হলে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।