ঢাকা , রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিকের সংবাদ সম্মেলন

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর এলাকায় রাসায়নিক কারখানার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক মোঃ আশিফ আহাম্মেদ আওলাদ সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (০২ মে) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে আশিফ আহাম্মেদ আওলাদ জানান, গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১টায় সাইন পলি কেমিক্যাল নামের একটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই কারখানাটি তার বাড়ির দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ছিল।
তিনি বলেন,আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং জ্বলন্ত কারখানার অংশ আমার বাড়ির উপর ভেঙে পড়ে। এতে আমার ভবনের দ্বিতীয় তলা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং নিচতলার একাংশ পুড়ে যায়।
তিনি আরও বলেন,আমি নিজের চোখের সামনে আমার জীবনের শেষ সম্বল পুড়ে যেতে দেখেছি। প্রায় ২৫ বছর প্রবাসে (সিঙ্গাপুর) কষ্ট করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে এই বাড়ি নির্মাণ করেছিলাম।
পৈত্রিক ৭ শতাংশ জমির উপর ৫ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে নির্মিত এই দ্বিতল ভবনের ভাড়াই ছিল তার একমাত্র আয়ের উৎস। বর্তমানে ভবনটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সব ভাড়াটিয়া চলে গেছে।
আশিফ আহাম্মেদ অভিযোগ করেন, আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে দাহ্য রাসায়নিক কারখানা স্থাপন করায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
আবাসিক এলাকায় কীভাবে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল কারখানা গড়ে ওঠে, তা প্রশাসনের ব্যর্থতা ছাড়া কিছু নয়।
ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তুলে ধরে তিনি জানান, ড্রিম ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটেন্ট দ্বারা পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা গেছে,ভবনের দ্বিতীয় তলা পুনর্র্নিমাণ প্রয়োজন,প্রথম তলা ব্যাপক মেরামতের প্রয়োজন,আসবাবপত্রসহ মোট ক্ষতি: ২,০৬,৯৭,৬১৯ টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, প্রথমদিকে থানায় গেলে পুলিশ তার অভিযোগ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়।পরবর্তীতে ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলার আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে তাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে।তারা আমাকে বলেছে—এই ঘটনায় কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নিয়ম নেই। মামলা তুলে না নিলে আমার ও আমার পরিবারের ক্ষতি করবে।
এ কারণে নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে ১১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তিনি একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আশিফ আহাম্মেদ বলেন,আমি কোনো দয়া চাই না। আমি আমার ন্যায্য অধিকার চাই। আমার ক্ষতির সঠিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।প্রশাসনের কাছে বারবার গিয়েও এখনো কার্যকর কোনো সমাধান পাইনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিকের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে

স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর এলাকায় রাসায়নিক কারখানার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক মোঃ আশিফ আহাম্মেদ আওলাদ সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (০২ মে) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে আশিফ আহাম্মেদ আওলাদ জানান, গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১টায় সাইন পলি কেমিক্যাল নামের একটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই কারখানাটি তার বাড়ির দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ছিল।
তিনি বলেন,আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং জ্বলন্ত কারখানার অংশ আমার বাড়ির উপর ভেঙে পড়ে। এতে আমার ভবনের দ্বিতীয় তলা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং নিচতলার একাংশ পুড়ে যায়।
তিনি আরও বলেন,আমি নিজের চোখের সামনে আমার জীবনের শেষ সম্বল পুড়ে যেতে দেখেছি। প্রায় ২৫ বছর প্রবাসে (সিঙ্গাপুর) কষ্ট করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে এই বাড়ি নির্মাণ করেছিলাম।
পৈত্রিক ৭ শতাংশ জমির উপর ৫ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে নির্মিত এই দ্বিতল ভবনের ভাড়াই ছিল তার একমাত্র আয়ের উৎস। বর্তমানে ভবনটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সব ভাড়াটিয়া চলে গেছে।
আশিফ আহাম্মেদ অভিযোগ করেন, আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে দাহ্য রাসায়নিক কারখানা স্থাপন করায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
আবাসিক এলাকায় কীভাবে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল কারখানা গড়ে ওঠে, তা প্রশাসনের ব্যর্থতা ছাড়া কিছু নয়।
ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তুলে ধরে তিনি জানান, ড্রিম ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটেন্ট দ্বারা পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা গেছে,ভবনের দ্বিতীয় তলা পুনর্র্নিমাণ প্রয়োজন,প্রথম তলা ব্যাপক মেরামতের প্রয়োজন,আসবাবপত্রসহ মোট ক্ষতি: ২,০৬,৯৭,৬১৯ টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, প্রথমদিকে থানায় গেলে পুলিশ তার অভিযোগ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়।পরবর্তীতে ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলার আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে তাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে।তারা আমাকে বলেছে—এই ঘটনায় কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নিয়ম নেই। মামলা তুলে না নিলে আমার ও আমার পরিবারের ক্ষতি করবে।
এ কারণে নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে ১১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তিনি একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আশিফ আহাম্মেদ বলেন,আমি কোনো দয়া চাই না। আমি আমার ন্যায্য অধিকার চাই। আমার ক্ষতির সঠিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।প্রশাসনের কাছে বারবার গিয়েও এখনো কার্যকর কোনো সমাধান পাইনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।