ঢাকা , বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় লোকসানের আশঙ্কা

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৬ ঘন্টা আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কোরবানির পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। গেল বছর ভারতীয় গরু না আসায় লাভবান হয়েছিলেন তারা।
এবারও বাড়তি লাভের আশায় বাণিজিক্যকভাবে পশু পরিচর্যা করছেন এখানকার খামারির। তবে গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় কোরবানির পশুর কাঙিক্ষত দাম নিয়ে দুশ্চিন্তা করছেন চাষীরা।
রূপগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ৮০০টি খামার রয়েছে। নিচু ও সমতল ভূমি হওয়ায় এ অঞ্চলে প্রাকৃতিক ঘাসের প্রাচুর্য রয়েছে, যা পশু পালনে সহায়ক। খামারিরা ঘাসের পাশাপাশি খৈল, গমের ভুসি ও ধানের কুঁড়া খাইয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজা করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসে জানিয়েছে, রূপগঞ্জে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ১৭ হাজারেরও অধিক। বিপরীতে খামারিদের কাছে পর্যাপ্ত পশু মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ষাঁড় রয়েছে প্রায় ৮ হাজারেরও অধিক, বলদ রয়েছে ২,৪৪৫, গাভী ২,২৪৫ এবং ছাগল ও ভেড়া রয়েছে মিলিয়ে রয়েছে ১৮,৪৯৫টি গবাদি পশু।
সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ করতে না দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন খামারিরা। উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার হাটাবো এলাকার খামারি মো. মকবুল হোসেন জানান, আমরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে গবাদি পশু পরিচর্যা করছি। কিন্তু গো-খাদ্যের দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে খরচ অনেক বেশি পড়ে গেছে। যদি বাইরের গরু না আসে, তবেই আমরা ন্যায্য মূল্য পাব এবং গত বছরের মতো লাভ করতে পারব।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সজল কুমার দাশ বলেন, রূপগঞ্জে এবার চাহিদার তুলনায় পশুর যোগান অনেক বেশি। আমরা খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছি। গো-খাদ্যের দাম কিছুটা বাড়তি থাকলেও স্থানীয় ঘাস ব্যবহারের কারণে খরচ সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে। আশা করছি খামারিরা তাদের পশুর সঠিক দাম পাবেন এবং রূপগঞ্জ উপজেলার চাহিদা মিটিয়েও বিপুল পরিমাণ পশু অন্যত্র সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে পশু আসা বন্ধ থাকলে এবং হাটগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে এবার রূপগঞ্জের পশুর হাটগুলো দেশি গরুর দখলে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় লোকসানের আশঙ্কা

আপডেট সময় ৬ ঘন্টা আগে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কোরবানির পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। গেল বছর ভারতীয় গরু না আসায় লাভবান হয়েছিলেন তারা।
এবারও বাড়তি লাভের আশায় বাণিজিক্যকভাবে পশু পরিচর্যা করছেন এখানকার খামারির। তবে গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় কোরবানির পশুর কাঙিক্ষত দাম নিয়ে দুশ্চিন্তা করছেন চাষীরা।
রূপগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ৮০০টি খামার রয়েছে। নিচু ও সমতল ভূমি হওয়ায় এ অঞ্চলে প্রাকৃতিক ঘাসের প্রাচুর্য রয়েছে, যা পশু পালনে সহায়ক। খামারিরা ঘাসের পাশাপাশি খৈল, গমের ভুসি ও ধানের কুঁড়া খাইয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজা করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসে জানিয়েছে, রূপগঞ্জে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ১৭ হাজারেরও অধিক। বিপরীতে খামারিদের কাছে পর্যাপ্ত পশু মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ষাঁড় রয়েছে প্রায় ৮ হাজারেরও অধিক, বলদ রয়েছে ২,৪৪৫, গাভী ২,২৪৫ এবং ছাগল ও ভেড়া রয়েছে মিলিয়ে রয়েছে ১৮,৪৯৫টি গবাদি পশু।
সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ করতে না দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন খামারিরা। উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার হাটাবো এলাকার খামারি মো. মকবুল হোসেন জানান, আমরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে গবাদি পশু পরিচর্যা করছি। কিন্তু গো-খাদ্যের দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে খরচ অনেক বেশি পড়ে গেছে। যদি বাইরের গরু না আসে, তবেই আমরা ন্যায্য মূল্য পাব এবং গত বছরের মতো লাভ করতে পারব।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সজল কুমার দাশ বলেন, রূপগঞ্জে এবার চাহিদার তুলনায় পশুর যোগান অনেক বেশি। আমরা খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছি। গো-খাদ্যের দাম কিছুটা বাড়তি থাকলেও স্থানীয় ঘাস ব্যবহারের কারণে খরচ সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে। আশা করছি খামারিরা তাদের পশুর সঠিক দাম পাবেন এবং রূপগঞ্জ উপজেলার চাহিদা মিটিয়েও বিপুল পরিমাণ পশু অন্যত্র সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে পশু আসা বন্ধ থাকলে এবং হাটগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে এবার রূপগঞ্জের পশুর হাটগুলো দেশি গরুর দখলে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।