ঢাকা , বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লুটপাট আর টাকা পাচারে অচল অবস্থায় ৮ ব্যাংক: পানিসম্পদ মন্ত্রী

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৪:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

বিগত সরকারের লুটপাট আর টাকা পাচারের কারণে বাংলাদেশের ৭ থেকে ৮টি ব্যাংক অচল অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসকের দায়িত্বভার গ্রহণে আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ মন্তব্য করেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের ১৫ কোটি টাকা ইউনিয়ন ব্যাংকে আটকে আছে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস যা আছে, সে সম্পদও জব্দ। শেষ পর্যন্ত তাও পাওয়া যাবে কি না তা কঠিন ব্যাপার। শুধু একটা ব্যাংকেই আজকে এ অবস্থা নয়। বাংলাদেশে ৭-৮ টি ব্যাংক আজকে অচল অবস্থায় রয়েছে শুধু লুটপাট আর টাকা পাচারের কারণে।

তিনি বলেন, একটা কঠিন সময়ে আমাদের দায়িত্ব নিতে হয়েছে। এই কঠিন সময় পার করাও কঠিন। এজন্য দরকার সবার আন্তরিকতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।

এ্যানি চৌধুরী বলেন, সারাদেশে অনেকগুলো মেগা প্রজেক্ট হয়েছে। এই মেগা প্রজেক্টের বেনিফিশিয়ারি গ্রামের মানুষ না, আমরা সাধারণ মানুষও না। হয়তো এটা সাময়িক ক্ষেত্রে আপনার আমার বিশেষ প্রয়োজন হয়। এমন এমন মেগা প্রজেক্ট হয়েছে যা এ মুহুর্তে গত ১৭ বছর না করলেও চলতো। আবার কিছু মেগা প্রজেক্ট জরুরি ছিল। সেগুলো হয়েছে। কিন্তু ১ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট ১০ হাজার কোটি টাকায় হয়েছে। মেগা প্রজেক্টে মেগা দুর্নীতি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোন ভাবে যেন দুর্নীতি না হয়। সেটা জেলা পরিষদ হোক, লক্ষ্মীপুর পৌরসভা, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল প্রশাসন, রোডস অফিস আর এলজিইডিতে হোক। তার দায়িত্ব কিন্তু তাকে (দায়িত্বপ্রাপ্তরা) নিতে হবে। কোন দায়-দায়িত্ব কিন্তু আমরা নেব না। এনিয়ে সম্পুর্ণভাবে আমাদের সরকার ওয়াকিবহাল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সবসময় খুবই সতর্ক রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, যদি কেউ কোন দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন, তাহল শুধু ডিপার্টমেন্টই না, তিনি যদি রাজনৈতিক ব্যক্তিও হন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এখানে এসেছি দীর্ঘদিন পর আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অনেক ত্যাগ শ্রম, সবশেষ জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়ে।

জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবুর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, জেলা জামায়াতের আমীর এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া, জেলা বিএনপির যুগ্মআহবায়ক হাছিবুর রহমান, বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপী, রায়পুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ননী গোপাল ঘোষ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের জেলা সভাপতি শংকর মজুমদার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুন নাহার ও লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাঈদুল ইসলাম পাবেল প্রমুখ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

লুটপাট আর টাকা পাচারে অচল অবস্থায় ৮ ব্যাংক: পানিসম্পদ মন্ত্রী

আপডেট সময় ০৪:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

বিগত সরকারের লুটপাট আর টাকা পাচারের কারণে বাংলাদেশের ৭ থেকে ৮টি ব্যাংক অচল অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসকের দায়িত্বভার গ্রহণে আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ মন্তব্য করেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের ১৫ কোটি টাকা ইউনিয়ন ব্যাংকে আটকে আছে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস যা আছে, সে সম্পদও জব্দ। শেষ পর্যন্ত তাও পাওয়া যাবে কি না তা কঠিন ব্যাপার। শুধু একটা ব্যাংকেই আজকে এ অবস্থা নয়। বাংলাদেশে ৭-৮ টি ব্যাংক আজকে অচল অবস্থায় রয়েছে শুধু লুটপাট আর টাকা পাচারের কারণে।

তিনি বলেন, একটা কঠিন সময়ে আমাদের দায়িত্ব নিতে হয়েছে। এই কঠিন সময় পার করাও কঠিন। এজন্য দরকার সবার আন্তরিকতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।

এ্যানি চৌধুরী বলেন, সারাদেশে অনেকগুলো মেগা প্রজেক্ট হয়েছে। এই মেগা প্রজেক্টের বেনিফিশিয়ারি গ্রামের মানুষ না, আমরা সাধারণ মানুষও না। হয়তো এটা সাময়িক ক্ষেত্রে আপনার আমার বিশেষ প্রয়োজন হয়। এমন এমন মেগা প্রজেক্ট হয়েছে যা এ মুহুর্তে গত ১৭ বছর না করলেও চলতো। আবার কিছু মেগা প্রজেক্ট জরুরি ছিল। সেগুলো হয়েছে। কিন্তু ১ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট ১০ হাজার কোটি টাকায় হয়েছে। মেগা প্রজেক্টে মেগা দুর্নীতি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোন ভাবে যেন দুর্নীতি না হয়। সেটা জেলা পরিষদ হোক, লক্ষ্মীপুর পৌরসভা, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল প্রশাসন, রোডস অফিস আর এলজিইডিতে হোক। তার দায়িত্ব কিন্তু তাকে (দায়িত্বপ্রাপ্তরা) নিতে হবে। কোন দায়-দায়িত্ব কিন্তু আমরা নেব না। এনিয়ে সম্পুর্ণভাবে আমাদের সরকার ওয়াকিবহাল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সবসময় খুবই সতর্ক রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, যদি কেউ কোন দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন, তাহল শুধু ডিপার্টমেন্টই না, তিনি যদি রাজনৈতিক ব্যক্তিও হন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এখানে এসেছি দীর্ঘদিন পর আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অনেক ত্যাগ শ্রম, সবশেষ জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়ে।

জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবুর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, জেলা জামায়াতের আমীর এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া, জেলা বিএনপির যুগ্মআহবায়ক হাছিবুর রহমান, বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপী, রায়পুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ননী গোপাল ঘোষ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের জেলা সভাপতি শংকর মজুমদার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুন নাহার ও লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাঈদুল ইসলাম পাবেল প্রমুখ।