ঢাকা , রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একাই সিটি নির্বাচন করবে জামায়াত

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

সাব্বির হোসেন
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে এসে এবার এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। বিষয়টি ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দলটির নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমীর মাওলানা আব্দুল জব্বার শুক্রবার (৩ এপ্রিল) গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং স্থানীয় পর্যায়ের চাহিদা বিবেচনায় আমরা এককভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খুব শিগগিরই আমরা আমাদের প্রার্থী ঘোষণা করব।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জোটগত রাজনীতির অংশ হিসেবে নির্বাচন করলেও এবার দলীয় স্বকীয়তা তুলে ধরার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমাদের নিজস্ব ভোটব্যাংক, সাংগঠনিক শক্তি এবং জনসম্পৃক্ততা যাচাই করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ,যোগ করেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে জামায়াতের এই সিদ্ধান্ত একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতদিন জোটের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দলটির স্বতন্ত্র অবস্থান পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়নি। এবার এককভাবে অংশ নিলে দলটির প্রকৃত জনসমর্থন কতটুকু তা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত, জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন পর এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। অনেকেই মনে করছেন, এতে করে দলীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়বে।
এই সিদ্ধান্ত যেমন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে, তেমনি চ্যালেঞ্জও কম নয়। নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় দলগুলোর প্রভাব, প্রশাসনিক চাপ, এবং নির্বাচনী কৌশল সব মিলিয়ে এককভাবে লড়াই করা সহজ হবে না। তবুও সঠিক প্রার্থী নির্বাচন এবং কার্যকর প্রচারণা চালাতে পারলে জামায়াত উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোট থেকে জামায়াতের বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জোটের অভ্যন্তরেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে জোটের সাংগঠনিক শক্তি কিছুটা দুর্বল হতে পারে এবং নির্বাচনী সমীকরণে পরিবর্তন আসতে পারে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন বরাবরই জাতীয় রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়। এই নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান, জোটগত সমীকরণ এবং প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ইমেজ বড় ভূমিকা রাখে। সেই বিবেচনায় জামায়াতের একক অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে একটি বড় ঘটনা।
নগরীর সচেতন ভোটারদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, এতে করে ভোটারদের সামনে বিকল্প প্রার্থীর সংখ্যা বাড়বে এবং প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, ভোট বিভাজনের কারণে নির্বাচনের ফলাফলে নতুন ধরনের চমক দেখা যেতে পারে।
এদিকে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে বড় দলগুলো তাদের কৌশল নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিতে পারে। নির্বাচনী মাঠে কারা কাকে সমর্থন দেবে, কে কার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে এসব বিষয় এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও রাজনৈতিক তৎপরতা ইতোমধ্যেই বেড়ে গেছে।
সব মিলিয়ে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে উত্তাপ তৈরি হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, দলটি কাকে প্রার্থী ঘোষণা করে এবং নির্বাচনী মাঠে কতটা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে।
নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে, এবারের নাসিক নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও বহুমাত্রিক। আর এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতের নতুন সিদ্ধান্ত নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

একাই সিটি নির্বাচন করবে জামায়াত

আপডেট সময় ০১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

সাব্বির হোসেন
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে এসে এবার এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। বিষয়টি ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দলটির নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমীর মাওলানা আব্দুল জব্বার শুক্রবার (৩ এপ্রিল) গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং স্থানীয় পর্যায়ের চাহিদা বিবেচনায় আমরা এককভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খুব শিগগিরই আমরা আমাদের প্রার্থী ঘোষণা করব।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জোটগত রাজনীতির অংশ হিসেবে নির্বাচন করলেও এবার দলীয় স্বকীয়তা তুলে ধরার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমাদের নিজস্ব ভোটব্যাংক, সাংগঠনিক শক্তি এবং জনসম্পৃক্ততা যাচাই করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ,যোগ করেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে জামায়াতের এই সিদ্ধান্ত একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতদিন জোটের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দলটির স্বতন্ত্র অবস্থান পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়নি। এবার এককভাবে অংশ নিলে দলটির প্রকৃত জনসমর্থন কতটুকু তা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত, জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন পর এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। অনেকেই মনে করছেন, এতে করে দলীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়বে।
এই সিদ্ধান্ত যেমন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে, তেমনি চ্যালেঞ্জও কম নয়। নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় দলগুলোর প্রভাব, প্রশাসনিক চাপ, এবং নির্বাচনী কৌশল সব মিলিয়ে এককভাবে লড়াই করা সহজ হবে না। তবুও সঠিক প্রার্থী নির্বাচন এবং কার্যকর প্রচারণা চালাতে পারলে জামায়াত উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোট থেকে জামায়াতের বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জোটের অভ্যন্তরেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে জোটের সাংগঠনিক শক্তি কিছুটা দুর্বল হতে পারে এবং নির্বাচনী সমীকরণে পরিবর্তন আসতে পারে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন বরাবরই জাতীয় রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়। এই নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান, জোটগত সমীকরণ এবং প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ইমেজ বড় ভূমিকা রাখে। সেই বিবেচনায় জামায়াতের একক অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে একটি বড় ঘটনা।
নগরীর সচেতন ভোটারদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, এতে করে ভোটারদের সামনে বিকল্প প্রার্থীর সংখ্যা বাড়বে এবং প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, ভোট বিভাজনের কারণে নির্বাচনের ফলাফলে নতুন ধরনের চমক দেখা যেতে পারে।
এদিকে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে বড় দলগুলো তাদের কৌশল নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিতে পারে। নির্বাচনী মাঠে কারা কাকে সমর্থন দেবে, কে কার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে এসব বিষয় এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও রাজনৈতিক তৎপরতা ইতোমধ্যেই বেড়ে গেছে।
সব মিলিয়ে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে উত্তাপ তৈরি হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, দলটি কাকে প্রার্থী ঘোষণা করে এবং নির্বাচনী মাঠে কতটা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে।
নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে, এবারের নাসিক নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও বহুমাত্রিক। আর এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতের নতুন সিদ্ধান্ত নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।