ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হতাশায় বিএনপির বঞ্চিত ত্যাগীরা

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৬ ঘন্টা আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
দল ও সরকারে কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন না পাওয়ায় নারায়ণগঞ্জে বিএনপির ত্যাগী অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে হতাশা বাড়ছে। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থেকেও অনেকে পদ-পদবি কিংবা নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ রাজনীতি নিয়েও নতুন করে ভাবছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, প্রয়োজনের সময় যাদের পাশে পাওয়া গেছে, এখন তাদের অনেককেই আর খুঁজে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও সরকারে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব তৈরি হওয়ায় এই হতাশা আরও বাড়ছে।
তাদের মতে, নেতারা যদি নিয়মিত দলীয় কার্যালয়ে বসতেন, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং খোঁজখবর নিতেন—তাহলে পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন হতে পারত। কেন্দ্র থেকে মন্ত্রীদের দলীয় কার্যালয়ে বসার নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তা খুব একটা মানা হচ্ছে না। ফলে নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে নেতাকর্মীদের অনেকেই বাধ্য হয়ে সচিবালয়মুখী হচ্ছেন।
নারায়ণগঞ্জের তৃণমূল পর্যায়ের কয়েকজন নেতা জানান, দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা অনেকেই এখন অবমূল্যায়নের শিকার হচ্ছেন। এতে সংগঠনের ভেতরে ধীরে ধীরে দুর্বলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। তাদের ভাষ্য, ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়ন না হলে ভবিষ্যতে দল বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তিনি নিজে অসুস্থতা নিয়েও নিয়মিত অফিস করছেন, কিন্তু অন্য অনেককে সেখানে পাওয়া যায় না। বরং নতুন কিছু তদবিরবাজদের উপস্থিতি বেড়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার মতে, দলের নিবেদিত কর্মীদের জায়গা নিশ্চিত করতে হবে এবং তদবির সংস্কৃতি থেকে সবাইকে দূরে থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী হতাশায় ভুগছেন, কিন্তু তারা খোলামেলা কিছু বলতে পারছেন না। এই অবস্থার পরিবর্তনে দল ও সরকারকে আলাদা রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়া নারায়ণগঞ্জের অনেক নেতাই এখন উপজেলা নির্বাচনে সুযোগ খুঁজছেন। তবে স্থানীয় জনপ্রিয়তা ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়েই প্রার্থী বাছাই করা হবে বলে জানা গেছে। একইভাবে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন না পাওয়া অনেক নারী নেত্রীও নতুন করে সুযোগের অপেক্ষায় আছেন।
অন্যদিকে, দলীয় পদ-পদবি না পেয়ে কিছু নেতাকর্মীর মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনাও ঘটছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়ার মতো ঘটনাও সামনে এসেছে, যা তৃণমূলের হতাশার প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। কেউ কেউ নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার কথাও ভাবছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সামগ্রিকভাবে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির তৃণমূলের এই হতাশা সংগঠনের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

হতাশায় বিএনপির বঞ্চিত ত্যাগীরা

আপডেট সময় ৬ ঘন্টা আগে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
দল ও সরকারে কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন না পাওয়ায় নারায়ণগঞ্জে বিএনপির ত্যাগী অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে হতাশা বাড়ছে। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থেকেও অনেকে পদ-পদবি কিংবা নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ রাজনীতি নিয়েও নতুন করে ভাবছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, প্রয়োজনের সময় যাদের পাশে পাওয়া গেছে, এখন তাদের অনেককেই আর খুঁজে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও সরকারে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব তৈরি হওয়ায় এই হতাশা আরও বাড়ছে।
তাদের মতে, নেতারা যদি নিয়মিত দলীয় কার্যালয়ে বসতেন, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং খোঁজখবর নিতেন—তাহলে পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন হতে পারত। কেন্দ্র থেকে মন্ত্রীদের দলীয় কার্যালয়ে বসার নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তা খুব একটা মানা হচ্ছে না। ফলে নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে নেতাকর্মীদের অনেকেই বাধ্য হয়ে সচিবালয়মুখী হচ্ছেন।
নারায়ণগঞ্জের তৃণমূল পর্যায়ের কয়েকজন নেতা জানান, দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা অনেকেই এখন অবমূল্যায়নের শিকার হচ্ছেন। এতে সংগঠনের ভেতরে ধীরে ধীরে দুর্বলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। তাদের ভাষ্য, ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়ন না হলে ভবিষ্যতে দল বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তিনি নিজে অসুস্থতা নিয়েও নিয়মিত অফিস করছেন, কিন্তু অন্য অনেককে সেখানে পাওয়া যায় না। বরং নতুন কিছু তদবিরবাজদের উপস্থিতি বেড়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার মতে, দলের নিবেদিত কর্মীদের জায়গা নিশ্চিত করতে হবে এবং তদবির সংস্কৃতি থেকে সবাইকে দূরে থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী হতাশায় ভুগছেন, কিন্তু তারা খোলামেলা কিছু বলতে পারছেন না। এই অবস্থার পরিবর্তনে দল ও সরকারকে আলাদা রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়া নারায়ণগঞ্জের অনেক নেতাই এখন উপজেলা নির্বাচনে সুযোগ খুঁজছেন। তবে স্থানীয় জনপ্রিয়তা ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়েই প্রার্থী বাছাই করা হবে বলে জানা গেছে। একইভাবে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন না পাওয়া অনেক নারী নেত্রীও নতুন করে সুযোগের অপেক্ষায় আছেন।
অন্যদিকে, দলীয় পদ-পদবি না পেয়ে কিছু নেতাকর্মীর মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনাও ঘটছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়ার মতো ঘটনাও সামনে এসেছে, যা তৃণমূলের হতাশার প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। কেউ কেউ নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার কথাও ভাবছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সামগ্রিকভাবে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির তৃণমূলের এই হতাশা সংগঠনের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।