ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইনশৃঙ্খলার অবনতি

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৬ ঘন্টা আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ জেলায় গত এক মাসে লাশ উদ্ধারের সংখ্যা কিছুটা কমলেও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। বরং হত্যাকাণ্ড, অপমৃত্যু, সড়ক দুর্ঘটনা এবং সাম্প্রতিক সময়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও তীব্র হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ১৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি হত্যাকাণ্ড, ১১টি অপমৃত্যু এবং ২টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের ঘটনা রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগের মাসের তুলনায় লাশ উদ্ধারের সংখ্যা কিছুটা কম হলেও মৃত্যুর প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—সহিংসতা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়ে গেছে।
মাসের শুরুতেই ঘটে একাধিক মর্মান্তিক ঘটনা। ৩১ মার্চ রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন ব্রিজের নিচ থেকে উদ্ধার করা একটি অজ্ঞাত মরদেহ পরে ফতুল্লা থেকে নিখোঁজ শুভ নামে এক কিশোরের বলে দাবি করেন তার মা মাকসুদা বেগম। ৫ এপ্রিল পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করেন বলে নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) হাসিনুজ্জামান।
১ এপ্রিল চর সৈয়দপুর এলাকায় তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর ঢালে ইজিবাইকের ধাক্কায় আবু বকর (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। পরদিন ২ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দশতলা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মো. ফরহাদ (৩৫) নিহত হন। একই দিনে আড়াইহাজারে অটোরিকশা উল্টে সুলতানা (২৪) নামে এক তরুণীর মৃত্যু ঘটে।
৪ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় একটি পরিত্যক্ত পোশাক কারখানার ভেতর থেকে নিরাপত্তাকর্মী মো. জসীম উদ্দীন (৪২)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ৫ এপ্রিল সোনারগাঁ উপজেলার রতনপুর এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে লিটন নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
৬ এপ্রিল ফতুল্লার উত্তর নরসিংপুর এলাকায় নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পর সৈকত (৭) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একইদিন সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর বাজার সংলগ্ন একটি দীঘি থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
৯ এপ্রিল রূপগঞ্জে অটোরিকশা সংক্রান্ত বিরোধে আবদুল লতিফ (৬৬) নিহত হন। একইদিন সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় মিতালি মার্কেটে শ্রমিক বিপ্লব শেখ (২৭)-এর মৃত্যু রহস্যজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
১০ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের রায়েরটেক এলাকায় ফুটবল খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই ভাই আদনান (১০) ও আব্রাহাম (৭)-এর মৃত্যু হয়। ১৫ এপ্রিল বৈদ্যেরবাজার এলাকায় পুকুরে ডুবে সাফওয়ান (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।
১৭ এপ্রিল নগরীর জল্লারপাড় সিটি পার্ক লেকে ডুবে আল আমিন (১০) ও ইব্রাহিম (৮) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। একইদিন কাশীপুর এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের পানির ট্যাংকে বিষাক্ত গ্যাসে দমবন্ধ হয়ে দেলোয়ার মৃধা (৩৫) ও রানা (২২) নামে দুই শ্রমিক নিহত হন।
১৯ এপ্রিল বন্দরের ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদী থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২০ এপ্রিল ফতুল্লার পিলকুনি এলাকায় একটি মসজিদের ছাদ থেকে পড়ে জিহাদ (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। ২১ এপ্রিল ফতুল্লার একটি কারখানায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রাকিব (৩০) নামে এক শ্রমিক নিহত হন।
এদিকে, নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধি। চাষাঢ়া, মাসদাইর, সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা ও ডনচেম্বারসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতের বেলায় ডাকাত দলের তৎপরতা বেড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতে রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে গেলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে চুরি-ডাকাতির ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী নিরাপত্তাহীনতার কারণে আগেভাগেই দোকানপাট বন্ধ করে দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষের ভাষ্য—লাশ উদ্ধারের সংখ্যা কমলেও অপরাধের ধরন ও বিস্তার কমেনি, বরং নতুনভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশেষ করে ফতুল্লার আলোচিত শুভ হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনমনে ক্ষোভ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামিরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহদী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
নগরবাসীর দাবি কেবল অভিযানে সীমাবদ্ধ থাকলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। প্রয়োজন গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়ানো। পাশাপাশি রাতের টহল জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, গত এক মাসে লাশ উদ্ধারের সংখ্যা কিছুটা কমলেও নারায়ণগঞ্জে হত্যাকাণ্ড, অপমৃত্যু, দুর্ঘটনা এবং ডাকাতির মতো অপরাধ প্রবণতা এখনো উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নাগরিকদের প্রত্যাশা—আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও দৃশ্যমান, সক্রিয় ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা পালন করে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আইনশৃঙ্খলার অবনতি

আপডেট সময় ৬ ঘন্টা আগে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ জেলায় গত এক মাসে লাশ উদ্ধারের সংখ্যা কিছুটা কমলেও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। বরং হত্যাকাণ্ড, অপমৃত্যু, সড়ক দুর্ঘটনা এবং সাম্প্রতিক সময়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও তীব্র হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ১৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি হত্যাকাণ্ড, ১১টি অপমৃত্যু এবং ২টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের ঘটনা রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগের মাসের তুলনায় লাশ উদ্ধারের সংখ্যা কিছুটা কম হলেও মৃত্যুর প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—সহিংসতা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়ে গেছে।
মাসের শুরুতেই ঘটে একাধিক মর্মান্তিক ঘটনা। ৩১ মার্চ রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন ব্রিজের নিচ থেকে উদ্ধার করা একটি অজ্ঞাত মরদেহ পরে ফতুল্লা থেকে নিখোঁজ শুভ নামে এক কিশোরের বলে দাবি করেন তার মা মাকসুদা বেগম। ৫ এপ্রিল পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করেন বলে নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) হাসিনুজ্জামান।
১ এপ্রিল চর সৈয়দপুর এলাকায় তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর ঢালে ইজিবাইকের ধাক্কায় আবু বকর (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। পরদিন ২ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দশতলা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মো. ফরহাদ (৩৫) নিহত হন। একই দিনে আড়াইহাজারে অটোরিকশা উল্টে সুলতানা (২৪) নামে এক তরুণীর মৃত্যু ঘটে।
৪ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় একটি পরিত্যক্ত পোশাক কারখানার ভেতর থেকে নিরাপত্তাকর্মী মো. জসীম উদ্দীন (৪২)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ৫ এপ্রিল সোনারগাঁ উপজেলার রতনপুর এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে লিটন নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
৬ এপ্রিল ফতুল্লার উত্তর নরসিংপুর এলাকায় নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পর সৈকত (৭) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একইদিন সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর বাজার সংলগ্ন একটি দীঘি থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
৯ এপ্রিল রূপগঞ্জে অটোরিকশা সংক্রান্ত বিরোধে আবদুল লতিফ (৬৬) নিহত হন। একইদিন সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় মিতালি মার্কেটে শ্রমিক বিপ্লব শেখ (২৭)-এর মৃত্যু রহস্যজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
১০ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের রায়েরটেক এলাকায় ফুটবল খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই ভাই আদনান (১০) ও আব্রাহাম (৭)-এর মৃত্যু হয়। ১৫ এপ্রিল বৈদ্যেরবাজার এলাকায় পুকুরে ডুবে সাফওয়ান (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।
১৭ এপ্রিল নগরীর জল্লারপাড় সিটি পার্ক লেকে ডুবে আল আমিন (১০) ও ইব্রাহিম (৮) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। একইদিন কাশীপুর এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের পানির ট্যাংকে বিষাক্ত গ্যাসে দমবন্ধ হয়ে দেলোয়ার মৃধা (৩৫) ও রানা (২২) নামে দুই শ্রমিক নিহত হন।
১৯ এপ্রিল বন্দরের ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদী থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২০ এপ্রিল ফতুল্লার পিলকুনি এলাকায় একটি মসজিদের ছাদ থেকে পড়ে জিহাদ (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। ২১ এপ্রিল ফতুল্লার একটি কারখানায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রাকিব (৩০) নামে এক শ্রমিক নিহত হন।
এদিকে, নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধি। চাষাঢ়া, মাসদাইর, সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা ও ডনচেম্বারসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতের বেলায় ডাকাত দলের তৎপরতা বেড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতে রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে গেলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে চুরি-ডাকাতির ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী নিরাপত্তাহীনতার কারণে আগেভাগেই দোকানপাট বন্ধ করে দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষের ভাষ্য—লাশ উদ্ধারের সংখ্যা কমলেও অপরাধের ধরন ও বিস্তার কমেনি, বরং নতুনভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশেষ করে ফতুল্লার আলোচিত শুভ হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনমনে ক্ষোভ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামিরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহদী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
নগরবাসীর দাবি কেবল অভিযানে সীমাবদ্ধ থাকলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। প্রয়োজন গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়ানো। পাশাপাশি রাতের টহল জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, গত এক মাসে লাশ উদ্ধারের সংখ্যা কিছুটা কমলেও নারায়ণগঞ্জে হত্যাকাণ্ড, অপমৃত্যু, দুর্ঘটনা এবং ডাকাতির মতো অপরাধ প্রবণতা এখনো উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নাগরিকদের প্রত্যাশা—আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও দৃশ্যমান, সক্রিয় ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা পালন করে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।