ঢাকা , শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিতর্কিত স্বেচ্ছাসেবক দল!

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ১৩ ঘন্টা আগে
  • ২ বার পড়া হয়েছে

‎সাব্বির হোসেন
‎নারায়ণগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা ও উদ্বেগ। দলীয় কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার এবং অর্থনৈতিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ-সহিংসতা যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
‎ফতুল্লায় ঝুট (গার্মেন্টস বর্জ্য কাপড়) ব্যবসা নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
‎বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে ফতুল্লার চাঁদনী হাউজিং এলাকার বেস্ট কম্পোজিট লিমিটেড গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জের ধরেই এদিন সকালে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়, যা অল্প সময়ের মধ্যেই সহিংস রূপ নেয়।
‎প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের শুরুতেই ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রাসেল মাহমুদ ও তার অনুসারীরা প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালান। তাদের হামলার জবাবে যুবদলের নেতাকর্মীরাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হন।
‎স্থানীয়রা জানান সংঘর্ষের সময় রাসেল মাহমুদের ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয় স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ১০ বছর বয়সী ছাত্র ইমরান, যিনি ঘটনাস্থলের পাশেই অবস্থান করছিলেন। ইমরান আসমাউল হোসেনের ছেলে বলে জানা গেছে। শিশুটির গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
‎এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের এই ধরনের সহিংসতায় নিরীহ মানুষ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা বলেন, “আমরা শান্তিতে থাকতে চাই। কিন্তু প্রতিদিন কোনো না কোনো কারণে সংঘর্ষ লেগেই আছে। শিশু পর্যন্ত গুলিবিদ্ধ হচ্ছে এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
‎ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টহল জোরদার করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
‎এদিকে, এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন রাসেল মাহমুদ। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিশেষ করে ঝুট ব্যবসা, পরিবহন খাত ও স্থানীয় বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে।
‎উল্লেখ্য, এর আগেও রাসেল মাহমুদ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য সমালোচিত হয়েছেন। বিসিক এলাকায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন। ওই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং দলের ভেতরেও ক্ষোভ তৈরি হয়।
‎অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানার বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ফতুল্লার ইসদাইর এলাকায় শুভ নামের এক যুবককে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে তার নাম উঠে আসে। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। এ কারণে দলটির ভাবমূর্তি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
‎নারায়ণগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি অংশ সংগঠনের আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণে বেশি মনোযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়ছে।
‎ঝুট ব্যবসা নারায়ণগঞ্জের একটি লাভজনক খাত। এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলে আসছে। আর এই প্রতিযোগিতা অনেক সময় সহিংসতায় রূপ নেয়, যার শিকার হন সাধারণ মানুষ।
‎স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, এ ধরনের সংঘর্ষের কারণে ব্যবসায়িক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা। একজন ব্যবসায়ী বলেন, ঝুট ব্যবসা করতে এসে এখন জীবন নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে। কখন কোন পক্ষ এসে হামলা চালাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।”
‎নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখখছি এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং জড়িতদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

বিতর্কিত স্বেচ্ছাসেবক দল!

আপডেট সময় ১৩ ঘন্টা আগে

‎সাব্বির হোসেন
‎নারায়ণগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা ও উদ্বেগ। দলীয় কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার এবং অর্থনৈতিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ-সহিংসতা যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
‎ফতুল্লায় ঝুট (গার্মেন্টস বর্জ্য কাপড়) ব্যবসা নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
‎বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে ফতুল্লার চাঁদনী হাউজিং এলাকার বেস্ট কম্পোজিট লিমিটেড গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জের ধরেই এদিন সকালে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়, যা অল্প সময়ের মধ্যেই সহিংস রূপ নেয়।
‎প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের শুরুতেই ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রাসেল মাহমুদ ও তার অনুসারীরা প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালান। তাদের হামলার জবাবে যুবদলের নেতাকর্মীরাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হন।
‎স্থানীয়রা জানান সংঘর্ষের সময় রাসেল মাহমুদের ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয় স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ১০ বছর বয়সী ছাত্র ইমরান, যিনি ঘটনাস্থলের পাশেই অবস্থান করছিলেন। ইমরান আসমাউল হোসেনের ছেলে বলে জানা গেছে। শিশুটির গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
‎এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের এই ধরনের সহিংসতায় নিরীহ মানুষ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা বলেন, “আমরা শান্তিতে থাকতে চাই। কিন্তু প্রতিদিন কোনো না কোনো কারণে সংঘর্ষ লেগেই আছে। শিশু পর্যন্ত গুলিবিদ্ধ হচ্ছে এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
‎ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টহল জোরদার করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
‎এদিকে, এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন রাসেল মাহমুদ। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিশেষ করে ঝুট ব্যবসা, পরিবহন খাত ও স্থানীয় বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে।
‎উল্লেখ্য, এর আগেও রাসেল মাহমুদ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য সমালোচিত হয়েছেন। বিসিক এলাকায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন। ওই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং দলের ভেতরেও ক্ষোভ তৈরি হয়।
‎অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানার বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ফতুল্লার ইসদাইর এলাকায় শুভ নামের এক যুবককে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে তার নাম উঠে আসে। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। এ কারণে দলটির ভাবমূর্তি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
‎নারায়ণগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি অংশ সংগঠনের আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণে বেশি মনোযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়ছে।
‎ঝুট ব্যবসা নারায়ণগঞ্জের একটি লাভজনক খাত। এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলে আসছে। আর এই প্রতিযোগিতা অনেক সময় সহিংসতায় রূপ নেয়, যার শিকার হন সাধারণ মানুষ।
‎স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, এ ধরনের সংঘর্ষের কারণে ব্যবসায়িক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা। একজন ব্যবসায়ী বলেন, ঝুট ব্যবসা করতে এসে এখন জীবন নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে। কখন কোন পক্ষ এসে হামলা চালাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।”
‎নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখখছি এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং জড়িতদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।