ঢাকা , শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাপে সাধারণ ক্রেতারা

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
এক সপ্তাহের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জের কাঁচাবাজারে আবারও বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। সবজি, মাছ ও মুরগির দাম একসঙ্গে বাড়ায় চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। অনেকেই বলছেন, আগের মতো বাজার করা এখন আর সম্ভব হচ্ছে না।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে দিগুবাবুর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে। তবে বিক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, আড়তে পণ্যের সরবরাহ কম থাকায় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
বর্তমানে বেশিরভাগ সবজিই ৮০ থেকে ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন, যা গত সপ্তাহে ১০০-১১০ টাকায় ছিল, এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকায়। পটোলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০-৮০ টাকা। শসাও ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০-৮০ টাকায় উঠেছে। তবে আলুর দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে—২৫-৩০ টাকা কেজি।
বাজারের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, “গরমের কারণে অনেক সবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আড়তে মালের টান, তাই দাম বাড়ছে। আমরা বেশি লাভ করছি না।”
মাংসের বাজারেও একই চিত্র। ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৮০-১৯০ টাকা। সোনালি মুরগি এখন ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি। গরুর মাংস ৭৫০-৮৫০ টাকা এবং খাসি ১০৫০-১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারের মুরগি বিক্রেতা জানান, খামার থেকেই বেশি দামে মুরগি আসছে, তাই খুচরা বাজারে দাম কমানোর সুযোগ নেই।
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। রুই, কাতলা ও পাঙ্গাশের দাম কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। পাঙ্গাশ ও তেলাপিয়া ২২০-২৫০ টাকা, রুই ৩৫০-৫০০ টাকা এবং মাঝারি আকারের ইলিশ ১৪০০-১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা এক চাকরিজীবী বলেন, “একই বাজার করতে আগের চেয়ে ২০০-৩০০ টাকা বেশি লাগছে। প্রতি সপ্তাহেই দাম বাড়ছে, কিন্তু আয় তো বাড়ে না।”
তবে চাল ও ভোজ্যতেলের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। নাজিরশাইল চাল ৭০-৮৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৮৫-১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। এ অবস্থায় বাজারে তদারকি না বাড়ালে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

চাপে সাধারণ ক্রেতারা

আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
এক সপ্তাহের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জের কাঁচাবাজারে আবারও বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। সবজি, মাছ ও মুরগির দাম একসঙ্গে বাড়ায় চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। অনেকেই বলছেন, আগের মতো বাজার করা এখন আর সম্ভব হচ্ছে না।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে দিগুবাবুর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে। তবে বিক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, আড়তে পণ্যের সরবরাহ কম থাকায় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
বর্তমানে বেশিরভাগ সবজিই ৮০ থেকে ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন, যা গত সপ্তাহে ১০০-১১০ টাকায় ছিল, এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকায়। পটোলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০-৮০ টাকা। শসাও ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০-৮০ টাকায় উঠেছে। তবে আলুর দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে—২৫-৩০ টাকা কেজি।
বাজারের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, “গরমের কারণে অনেক সবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আড়তে মালের টান, তাই দাম বাড়ছে। আমরা বেশি লাভ করছি না।”
মাংসের বাজারেও একই চিত্র। ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৮০-১৯০ টাকা। সোনালি মুরগি এখন ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি। গরুর মাংস ৭৫০-৮৫০ টাকা এবং খাসি ১০৫০-১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারের মুরগি বিক্রেতা জানান, খামার থেকেই বেশি দামে মুরগি আসছে, তাই খুচরা বাজারে দাম কমানোর সুযোগ নেই।
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। রুই, কাতলা ও পাঙ্গাশের দাম কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। পাঙ্গাশ ও তেলাপিয়া ২২০-২৫০ টাকা, রুই ৩৫০-৫০০ টাকা এবং মাঝারি আকারের ইলিশ ১৪০০-১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা এক চাকরিজীবী বলেন, “একই বাজার করতে আগের চেয়ে ২০০-৩০০ টাকা বেশি লাগছে। প্রতি সপ্তাহেই দাম বাড়ছে, কিন্তু আয় তো বাড়ে না।”
তবে চাল ও ভোজ্যতেলের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। নাজিরশাইল চাল ৭০-৮৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৮৫-১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। এ অবস্থায় বাজারে তদারকি না বাড়ালে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।