ঢাকা , শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপরাধের শীর্ষে রূপগঞ্জ

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৪ ঘন্টা আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

সাব্বির হোসেন
নারায়ণগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে দুটি উপজেলার ভিন্ন বাস্তবতা রূপগঞ্জ উপজেলা ও বন্দর উপজেলা। জেলার এক প্রান্তে যেখানে হত্যা, গুম, মাদক ও দখলবাজির মতো গুরুতর অপরাধের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, অন্য প্রান্তে তুলনামূলকভাবে শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। এই বৈপরীত্য এখন স্থানীয় প্রশাসন, রাজনীতি এবং সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
গত কয়েক বছরে রূপগঞ্জে অপরাধের গ্রাফ ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে জমি দখল, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং সহিংসতার ঘটনা প্রায়ই শিরোনাম হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্রুত নগরায়ন এবং আবাসন ব্যবসার বিস্তার রূপগঞ্জকে এক ধরনের হটস্পট এ পরিণত করেছে, যেখানে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সক্রিয়।
রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় রাতের বেলায় মাদক কেনাবেচা, সংঘবদ্ধ চক্রের আধিপত্য এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালালেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
একাধিক বাসিন্দা জানান, আগে এলাকায় এত ভয় ছিল না। এখন সন্ধ্যার পর বাইরে বের হতে ভয় লাগে। ছোটখাটো বিষয় নিয়েও মারামারি, এমনকি হত্যার ঘটনাও ঘটছে।
রূপগঞ্জে গুম ও নিখোঁজের কিছু ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিবারগুলো অভিযোগ করছে, প্রিয়জনরা হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব ঘটনা পারিবারিক দ্বন্দ্ব বা ব্যক্তিগত কারণে ঘটে থাকে, তবুও মানুষের মনে আতঙ্ক কাটছে না।
এ ধরনের ঘটনা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সমাধান করা না গেলে জনমনে অবিশ্বাস তৈরি হয়, যা সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও দুর্বল করে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় বাস্তবতা
রূপগঞ্জের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবের কথাও সামনে আসছে। স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার এবং অর্থনৈতিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে অনেক সময় সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী হলেও তারা প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পায় না।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেক কিছুই চোখের সামনে ঘটে, কিন্তু ভয় থাকে। কারও বিরুদ্ধে কিছু বললে পরে ঝামেলায় পড়তে হয়।
অন্যদিকে, বন্দর উপজেলায় অপরাধের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। এখানে বড় ধরনের সহিংসতা বা সংঘবদ্ধ অপরাধের ঘটনা তুলনামূলক কম শোনা যায়। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ কিছুটা বেশি।
স্থানীয়দের মতে, বন্দরে সামাজিক বন্ধন এবং পারস্পরিক যোগাযোগ তুলনামূলক শক্তিশালী। এলাকার মানুষ একে অপরকে চেনে, ফলে অপরাধ সংঘটনের সুযোগ কিছুটা সীমিত থাকে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল এবং তৎপরতাও একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
একজন শিক্ষক বলেন, আমাদের এলাকায় ছোটখাটো সমস্যা থাকলেও বড় কোনো অপরাধ খুব একটা দেখা যায় না। পুলিশও নিয়মিত খোঁজখবর নেয়।
রূপগঞ্জ ও বন্দরের এই বৈপরীত্য নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রতিটি উপজেলার পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় চ্যালেঞ্জও ভিন্ন। রূপগঞ্জে শিল্পায়ন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে, তবে সেখানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে বন্দরে বর্তমান পরিস্থিতি ধরে রাখতে পুলিশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান, নিয়মিত টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিয়ে এই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সামাজিক সচেতনতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা।
তারা বলছেন, রূপগঞ্জে অপরাধ কমাতে হলে ভূমি ব্যবস্থাপনা, নগর পরিকল্পনা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
দুই উপজেলার মানুষই নিরাপদ পরিবেশ চান। রূপগঞ্জের বাসিন্দারা দ্রুত অপরাধ নিয়ন্ত্রণের দাবি জানাচ্ছেন, অন্যদিকে বন্দরের মানুষ তাদের বর্তমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন।
একজন রূপগঞ্জবাসী বলেন, আমরা চাই আমাদের এলাকাও বন্দরের মতো শান্ত হোক। এজন্য কঠোর ব্যবস্থা দরকার।” অন্যদিকে বন্দরের এক বাসিন্দা বলেন, যেন আমাদের এলাকাতেও অপরাধ না বাড়ে, সে জন্য আগেভাগেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, আমরা নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি থানা ,উপজেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে থাকি প্রতিনিয়ত। আমরা নারায়ণগঞ্জকের অপরাধ মুক্ত করতে দিন-রাত চেষ্টা করছি। ইনশাআল্লাহ্‌ খুব দ্রুতই নারায়ণগঞ্জের সকল থানা ও উপজেলায় অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে বলে আশা করছি।
সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন দ্বিমুখী চিত্র তুলে ধরছে। রূপগঞ্জ উপজেলা-এ অপরাধ বৃদ্ধির প্রবণতা যেখানে উদ্বেগজনক, সেখানে বন্দর উপজেলা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। তবে এই পার্থক্য দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সমন্বিত পরিকল্পনা, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে পুরো জেলায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

অপরাধের শীর্ষে রূপগঞ্জ

আপডেট সময় ৪ ঘন্টা আগে

সাব্বির হোসেন
নারায়ণগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে দুটি উপজেলার ভিন্ন বাস্তবতা রূপগঞ্জ উপজেলা ও বন্দর উপজেলা। জেলার এক প্রান্তে যেখানে হত্যা, গুম, মাদক ও দখলবাজির মতো গুরুতর অপরাধের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, অন্য প্রান্তে তুলনামূলকভাবে শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। এই বৈপরীত্য এখন স্থানীয় প্রশাসন, রাজনীতি এবং সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
গত কয়েক বছরে রূপগঞ্জে অপরাধের গ্রাফ ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে জমি দখল, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং সহিংসতার ঘটনা প্রায়ই শিরোনাম হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্রুত নগরায়ন এবং আবাসন ব্যবসার বিস্তার রূপগঞ্জকে এক ধরনের হটস্পট এ পরিণত করেছে, যেখানে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সক্রিয়।
রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় রাতের বেলায় মাদক কেনাবেচা, সংঘবদ্ধ চক্রের আধিপত্য এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালালেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
একাধিক বাসিন্দা জানান, আগে এলাকায় এত ভয় ছিল না। এখন সন্ধ্যার পর বাইরে বের হতে ভয় লাগে। ছোটখাটো বিষয় নিয়েও মারামারি, এমনকি হত্যার ঘটনাও ঘটছে।
রূপগঞ্জে গুম ও নিখোঁজের কিছু ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিবারগুলো অভিযোগ করছে, প্রিয়জনরা হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব ঘটনা পারিবারিক দ্বন্দ্ব বা ব্যক্তিগত কারণে ঘটে থাকে, তবুও মানুষের মনে আতঙ্ক কাটছে না।
এ ধরনের ঘটনা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সমাধান করা না গেলে জনমনে অবিশ্বাস তৈরি হয়, যা সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও দুর্বল করে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় বাস্তবতা
রূপগঞ্জের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবের কথাও সামনে আসছে। স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার এবং অর্থনৈতিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে অনেক সময় সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী হলেও তারা প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পায় না।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেক কিছুই চোখের সামনে ঘটে, কিন্তু ভয় থাকে। কারও বিরুদ্ধে কিছু বললে পরে ঝামেলায় পড়তে হয়।
অন্যদিকে, বন্দর উপজেলায় অপরাধের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। এখানে বড় ধরনের সহিংসতা বা সংঘবদ্ধ অপরাধের ঘটনা তুলনামূলক কম শোনা যায়। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ কিছুটা বেশি।
স্থানীয়দের মতে, বন্দরে সামাজিক বন্ধন এবং পারস্পরিক যোগাযোগ তুলনামূলক শক্তিশালী। এলাকার মানুষ একে অপরকে চেনে, ফলে অপরাধ সংঘটনের সুযোগ কিছুটা সীমিত থাকে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল এবং তৎপরতাও একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
একজন শিক্ষক বলেন, আমাদের এলাকায় ছোটখাটো সমস্যা থাকলেও বড় কোনো অপরাধ খুব একটা দেখা যায় না। পুলিশও নিয়মিত খোঁজখবর নেয়।
রূপগঞ্জ ও বন্দরের এই বৈপরীত্য নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রতিটি উপজেলার পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় চ্যালেঞ্জও ভিন্ন। রূপগঞ্জে শিল্পায়ন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে, তবে সেখানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে বন্দরে বর্তমান পরিস্থিতি ধরে রাখতে পুলিশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান, নিয়মিত টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিয়ে এই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সামাজিক সচেতনতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা।
তারা বলছেন, রূপগঞ্জে অপরাধ কমাতে হলে ভূমি ব্যবস্থাপনা, নগর পরিকল্পনা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
দুই উপজেলার মানুষই নিরাপদ পরিবেশ চান। রূপগঞ্জের বাসিন্দারা দ্রুত অপরাধ নিয়ন্ত্রণের দাবি জানাচ্ছেন, অন্যদিকে বন্দরের মানুষ তাদের বর্তমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন।
একজন রূপগঞ্জবাসী বলেন, আমরা চাই আমাদের এলাকাও বন্দরের মতো শান্ত হোক। এজন্য কঠোর ব্যবস্থা দরকার।” অন্যদিকে বন্দরের এক বাসিন্দা বলেন, যেন আমাদের এলাকাতেও অপরাধ না বাড়ে, সে জন্য আগেভাগেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, আমরা নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি থানা ,উপজেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে থাকি প্রতিনিয়ত। আমরা নারায়ণগঞ্জকের অপরাধ মুক্ত করতে দিন-রাত চেষ্টা করছি। ইনশাআল্লাহ্‌ খুব দ্রুতই নারায়ণগঞ্জের সকল থানা ও উপজেলায় অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে বলে আশা করছি।
সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন দ্বিমুখী চিত্র তুলে ধরছে। রূপগঞ্জ উপজেলা-এ অপরাধ বৃদ্ধির প্রবণতা যেখানে উদ্বেগজনক, সেখানে বন্দর উপজেলা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। তবে এই পার্থক্য দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সমন্বিত পরিকল্পনা, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে পুরো জেলায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার।