সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় অরুন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মশার কয়েল উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিপুল রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি কাস্টমস ব্যবস্থাপনা প্রভাবিত করে (ম্যানেজ করে) গত প্রায় ১০ বছরে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে তার কয়েল কারখানাগুলো পরিচালিত হচ্ছে, যার ফলে সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবেশগত ঝুঁকি ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
সিদ্ধিরগঞ্জের মাদারিনগর এলাকায় আবাসিক পরিবেশের মধ্যেই অরুনের নিজস্ব জায়গায় একটি কয়েল ফ্যাক্টরি স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে একটি চারতলা ভবনে বসবাস । এছাড়াও ১০ পাইপ এলাকাতেও নিজস্ব কয়েক বিঘা সম্পত্তিতে তার আরেকটি কয়েল কারখানা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরও জানা যায়, তার নামে ও স্ত্রী, সন্তানের নামে (নামীয়/বেনামি) নামে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে, যা গত এক দশকে অর্জিত হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।
অরুনের বাংলার কিং ও ফোর্স নামক মশার কয়েল কারখানা গড়ে উঠেছে। সেই সাথে সিদ্ধিরগঞ্জ কাস্টমসকে ম্যানেজ করে লক্ষ লক্ষ টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ মাদানী নগর মাদ্রাসার পাশে অরুনের মালিকানাধীন ফোর্স ও বাংলার কিং নামক মশার কয়েল কারখানা পরিবেশ ও ট্রেড লাইসেন্স বিহীন ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধ ভাবে চলছে মশার কয়েল কারখানা। শুধু তাই নয় অবৈধ ভাবে গ্যাস সংযোগ দিয়ে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকার সরকারের গ্যাস ব্যবহার করছে অরুন। ব্যবসার শুরু থেকে কাস্টমসকে ম্যানেজ করে সরকারের কোটি কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ অরুন। নামে বেনামে করেছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ। নাসিক ৩ নং ওয়ার্ডে করেছেন আলিশান ভবন।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে এলাকাবাসী জানায়, অবৈধভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ অরুনের মশার কয়েল কারখানাটি চালিয়ে যাচ্ছে । প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে পরিবেশ ও ট্রেড লাইসেন্সবিহীন মশার কয়েল কারখানা চালিয়ে অরুণ কোটি টাকার মশার কয়েল উৎপাদন করে সারাদেশে বিক্রি করে যাচ্ছে। সিদ্ধিরগঞ্জ কাস্টমসকে মাসিক মাসোহারার মাধ্যমে ম্যানেজ করে নামমাত্র ভ্যাট প্রদান করে সরকারের প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে বলে জানায় সূত্রটি। মশার কয়েল কারখানাটির পরিবেশ ছাড়পত্র ও ট্রেড লাইসেন্স নেই।
উক্ত বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তর ও সিটি কর্পোরেশন অফিসের কর্মকর্তারা জানান, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যদি কোন প্রতিষ্ঠান চলে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সিদ্ধিরগঞ্জ কাস্টমসের এক কর্মকর্তা জানান, কাস্টমসের সাথে কোন প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজের সুযোগ নেই। কোন প্রতিষ্ঠান যদি ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালায় প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও তদন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত অরুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার সব কাগজপত্র বৈধ আছে এবং বৈধ গ্যাস দিয়ে আমি ব্যবসা পরিচালনা করতেছি আপনারা আমার বিরুদ্ধে নিউজ করলে আমি আপনাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দেবো। বলে ফোনটি কেটে দেয়।
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজস্ব ফাঁকি ও অবৈধ গ্যাসে শত কোটির মালিক
-
ডেস্ক : - আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে
- ১ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ




















