ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরাজউদ্দৌলা সড়ক হকারদের দখলে

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ২ ঘন্টা আগে
  • ১ বার পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

‎সাব্বির হোসেন
নারায়ণগঞ্জ নগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক সিরাজউদ্দৌলা সড়ক আবারও হকারদের দখলে চলে গেছে। কিছুদিন আগেও প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের ফলে সড়ক ও ফুটপাতে স্বস্তি ফিরলেও বর্তমানে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। ফুটপাতজুড়ে বসেছে ভাসমান দোকান, সড়কের একাংশ দখল করে চলছে ব্যবসা, আর তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড ও এলোমেলো পার্কিং। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহন চালকদের।
‎সোমবার ২৭ এপ্রিল সকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই সড়কের দুই পাশে হকারদের আনাগোনা শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো ফুটপাত দখল হয়ে যায় বিভিন্ন পণ্যের দোকানে। কাপড়, জুতা, ফলমূল, ফাস্টফুড, মোবাইল এক্সেসরিজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা পণ্য নিয়ে বসেন হকাররা। অনেক ক্ষেত্রে ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়কের একাংশ পর্যন্ত দোকান বিস্তৃত করা হয়, ফলে যান চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়ে।
‎ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। বাধ্য হয়ে তারা সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করছেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
‎এদিকে সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গড়ে উঠেছে অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড। কোনো ধরনের অনুমোদন বা নিয়ম-নীতি ছাড়াই যেখানে-সেখানে অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে যাত্রী উঠানামা করানো হচ্ছে। এতে করে যানজট লেগেই থাকছে পুরো এলাকায়। অনেক সময় দেখা যায়, রাস্তার মাঝখানেই যাত্রী তুলতে গিয়ে যান চলাচল পুরোপুরি থমকে যায়।
‎স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সড়কের এমন পরিস্থিতির কারণে তাদের ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দোকানে ক্রেতারা সহজে আসতে পারছেন না। যানজট ও ভিড়ের কারণে অনেকেই এই সড়ক এড়িয়ে চলছেন।
‎এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা নিয়ম মেনে দোকান ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করি। কিন্তু ফুটপাত দখল করে হকাররা ব্যবসা করছে, এতে আমাদের ক্ষতি হচ্ছে। প্রশাসন একবার উচ্ছেদ করলেও পরে আর খোঁজ নেয় না।
‎অন্যদিকে পথচারীরা বলছেন, এই সড়কে চলাচল এখন একপ্রকার যুদ্ধের মতো হয়ে গেছে। প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে। একজন চাকরিজীবী বলেন, অফিসে যাওয়া-আসার সময় সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। ফুটপাত নেই, রাস্তা ভরা গাড়ি আর অটোরিকশা কিভাবে চলব বুঝি না।
‎অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্দিষ্ট কোনো স্ট্যান্ড না থাকায় তারা বাধ্য হয়েই সড়কের পাশে দাঁড়ান। একজন চালক বলেন, আমাদের জন্য যদি নির্দিষ্ট জায়গা থাকতো, তাহলে আমরা এখানে দাঁড়াতাম না। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা না থাকায় যেখানে জায়গা পাই সেখানেই দাঁড়াতে হয়।
‎সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, সমস্যাটি দীর্ঘদিনের এবং এর পেছনে রয়েছে সমন্বয়হীনতা ও নজরদারির অভাব। শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সাময়িক সমাধান সম্ভব হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না। হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না থাকায় তারা আবারও ফিরে আসে একই জায়গায়।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুর কুতুবুল আলম জানান,পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে সড়কে কোন হকার ও অবৈধ স্ট্যান্ড বসতে পারবেনা। এরপর যদি কেউ নির্দেশনা অমান্য করে বসে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎নগরবাসীর দাবি, অবিলম্বে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা, অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নিরাপদ নগর পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

সিরাজউদ্দৌলা সড়ক হকারদের দখলে

আপডেট সময় ২ ঘন্টা আগে

‎সাব্বির হোসেন
নারায়ণগঞ্জ নগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক সিরাজউদ্দৌলা সড়ক আবারও হকারদের দখলে চলে গেছে। কিছুদিন আগেও প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের ফলে সড়ক ও ফুটপাতে স্বস্তি ফিরলেও বর্তমানে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। ফুটপাতজুড়ে বসেছে ভাসমান দোকান, সড়কের একাংশ দখল করে চলছে ব্যবসা, আর তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড ও এলোমেলো পার্কিং। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহন চালকদের।
‎সোমবার ২৭ এপ্রিল সকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই সড়কের দুই পাশে হকারদের আনাগোনা শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো ফুটপাত দখল হয়ে যায় বিভিন্ন পণ্যের দোকানে। কাপড়, জুতা, ফলমূল, ফাস্টফুড, মোবাইল এক্সেসরিজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা পণ্য নিয়ে বসেন হকাররা। অনেক ক্ষেত্রে ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়কের একাংশ পর্যন্ত দোকান বিস্তৃত করা হয়, ফলে যান চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়ে।
‎ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। বাধ্য হয়ে তারা সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করছেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
‎এদিকে সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গড়ে উঠেছে অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড। কোনো ধরনের অনুমোদন বা নিয়ম-নীতি ছাড়াই যেখানে-সেখানে অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে যাত্রী উঠানামা করানো হচ্ছে। এতে করে যানজট লেগেই থাকছে পুরো এলাকায়। অনেক সময় দেখা যায়, রাস্তার মাঝখানেই যাত্রী তুলতে গিয়ে যান চলাচল পুরোপুরি থমকে যায়।
‎স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সড়কের এমন পরিস্থিতির কারণে তাদের ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দোকানে ক্রেতারা সহজে আসতে পারছেন না। যানজট ও ভিড়ের কারণে অনেকেই এই সড়ক এড়িয়ে চলছেন।
‎এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা নিয়ম মেনে দোকান ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করি। কিন্তু ফুটপাত দখল করে হকাররা ব্যবসা করছে, এতে আমাদের ক্ষতি হচ্ছে। প্রশাসন একবার উচ্ছেদ করলেও পরে আর খোঁজ নেয় না।
‎অন্যদিকে পথচারীরা বলছেন, এই সড়কে চলাচল এখন একপ্রকার যুদ্ধের মতো হয়ে গেছে। প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে। একজন চাকরিজীবী বলেন, অফিসে যাওয়া-আসার সময় সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। ফুটপাত নেই, রাস্তা ভরা গাড়ি আর অটোরিকশা কিভাবে চলব বুঝি না।
‎অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্দিষ্ট কোনো স্ট্যান্ড না থাকায় তারা বাধ্য হয়েই সড়কের পাশে দাঁড়ান। একজন চালক বলেন, আমাদের জন্য যদি নির্দিষ্ট জায়গা থাকতো, তাহলে আমরা এখানে দাঁড়াতাম না। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা না থাকায় যেখানে জায়গা পাই সেখানেই দাঁড়াতে হয়।
‎সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, সমস্যাটি দীর্ঘদিনের এবং এর পেছনে রয়েছে সমন্বয়হীনতা ও নজরদারির অভাব। শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সাময়িক সমাধান সম্ভব হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না। হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না থাকায় তারা আবারও ফিরে আসে একই জায়গায়।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুর কুতুবুল আলম জানান,পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে সড়কে কোন হকার ও অবৈধ স্ট্যান্ড বসতে পারবেনা। এরপর যদি কেউ নির্দেশনা অমান্য করে বসে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎নগরবাসীর দাবি, অবিলম্বে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা, অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নিরাপদ নগর পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।