ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

জ্বালানি সংকটে উৎপাদন কমেছে
সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জেও শিল্পকারখানাগুলোতে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলের মতো উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া, ঘন ঘন লোডশেডিং এবং জ্বালানি তেলের অপ্রতুলতার কারণে গত দুই মাসে এ অঞ্চলের বিভিন্ন খাতে উৎপাদন গড়ে প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে রূপগঞ্জ, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার গার্মেন্টস, ডাইং, টেক্সটাইল ও বস্ত্র খাত সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে। শিল্প মালিকরা বলছেন, উৎপাদন কমার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি, যা তাদের জন্য নতুন করে সংকট তৈরি করেছে।
রূপগঞ্জের ভূলতা, কাঞ্চন ও তারাবো এলাকার প্রায় দুই হাজার ছোট-বড় কারখানায় উৎপাদন অনেক ক্ষেত্রে অর্ধেকে নেমে এসেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ১০ হাজার পিস কাপড় উৎপাদন হতো, এখন তা কমে পাঁচ হাজারের নিচে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এক কারখানা মালিক।
অন্যদিকে, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের ডাইং ও টেক্সটাইল কারখানাগুলোতে দিনে ৬ থেকে ৭ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মেশিনের ক্ষতিও হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হলেও জ্বালানি তেলের সংকটে সেটিও নিয়মিত চালানো যাচ্ছে না।
ব্যবসায়ী নেতারা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পরিবহন ব্যয় ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় সময়মতো পণ্য সরবরাহেও সমস্যা হচ্ছে। ফলে অনেক উদ্যোক্তাকে বাড়তি খরচে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।
শিল্প মালিকদের অভিযোগ, পাম্প থেকে পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহ না থাকায় ড্রামে করে জ্বালানি সংগ্রহেও নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এতে কারখানা সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ বলছেন, দিনে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদনের পুরো পরিকল্পনাই ভেঙে পড়ে।
এদিকে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে নারায়ণগঞ্জের রপ্তানিমুখী শিল্প খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে। এতে কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে সরকার বলছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে উদ্যোগের পাশাপাশি শিল্পকারখানাগুলোকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের দিকেও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে জ্বালানি সংকটের এই চাপে নারায়ণগঞ্জের শিল্পখাত এখন এক কঠিন সময় পার করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে

জ্বালানি সংকটে উৎপাদন কমেছে
সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জেও শিল্পকারখানাগুলোতে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলের মতো উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া, ঘন ঘন লোডশেডিং এবং জ্বালানি তেলের অপ্রতুলতার কারণে গত দুই মাসে এ অঞ্চলের বিভিন্ন খাতে উৎপাদন গড়ে প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে রূপগঞ্জ, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার গার্মেন্টস, ডাইং, টেক্সটাইল ও বস্ত্র খাত সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে। শিল্প মালিকরা বলছেন, উৎপাদন কমার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি, যা তাদের জন্য নতুন করে সংকট তৈরি করেছে।
রূপগঞ্জের ভূলতা, কাঞ্চন ও তারাবো এলাকার প্রায় দুই হাজার ছোট-বড় কারখানায় উৎপাদন অনেক ক্ষেত্রে অর্ধেকে নেমে এসেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ১০ হাজার পিস কাপড় উৎপাদন হতো, এখন তা কমে পাঁচ হাজারের নিচে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এক কারখানা মালিক।
অন্যদিকে, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের ডাইং ও টেক্সটাইল কারখানাগুলোতে দিনে ৬ থেকে ৭ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মেশিনের ক্ষতিও হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হলেও জ্বালানি তেলের সংকটে সেটিও নিয়মিত চালানো যাচ্ছে না।
ব্যবসায়ী নেতারা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পরিবহন ব্যয় ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় সময়মতো পণ্য সরবরাহেও সমস্যা হচ্ছে। ফলে অনেক উদ্যোক্তাকে বাড়তি খরচে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।
শিল্প মালিকদের অভিযোগ, পাম্প থেকে পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহ না থাকায় ড্রামে করে জ্বালানি সংগ্রহেও নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এতে কারখানা সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ বলছেন, দিনে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদনের পুরো পরিকল্পনাই ভেঙে পড়ে।
এদিকে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে নারায়ণগঞ্জের রপ্তানিমুখী শিল্প খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে। এতে কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে সরকার বলছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে উদ্যোগের পাশাপাশি শিল্পকারখানাগুলোকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের দিকেও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে জ্বালানি সংকটের এই চাপে নারায়ণগঞ্জের শিল্পখাত এখন এক কঠিন সময় পার করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।