শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজ ও বিস্ফোরণের ঘটনা যেন উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলেছে। গ্যাসলাইন লিকেজ থেকে গত সাত দিনে ফতুল্লায় ২টি ও সোনারগাঁয়ে ১টি সহ মোট ৩টি বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ডের ঞটনা ঘটেছে। পৃথক তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজনসহ মোট আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন সর্বমোট ২১ জন।
সর্বশেষ গত ১৩ মে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনাঘাট এলাকায় অবস্থিত জেরা মেঘনাঘাট পাওয়ার প্লান্ট সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে প্রতিষ্ঠানটির ১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অগ্নিদগ্ধ হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেয়া হয়। সেখানে ছয়জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হলেও বাকি ছয়জনকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে শংকর (২৫) নামে একজন মারা যান।
এর আগে ১১ মে ফতুল্লার কুতুবপুরের লাকী বাজার এলাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে বাবা-ছেলেসহ চারজন দগ্ধ হন। এদের মধ্যে দগ্ধ বাবা আব্দুল কাদের (৫০) ও তার ছেলে রাকিব (১৬) মারা গেছেন। উভয়ে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তারও আগে ১০ মে সকালে ফতুল্লার উত্তর ভূইগড় এলাকার গিরিধারা এলাকার একটি আটতলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন লাগে। এতে একই পরিবারের শিশুসন্তানসহ পাঁচজন দগ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সবজি বিক্রেতা কালাম, তার স্ত্রী সায়মা, ১০ বছর বয়সী মেয়ে মুন্নি, ১২ বছর বয়সী ছেলে মুন্না এবং ৭ বছরের শিশু কন্যা কথার মৃত্যু হয়।
এদিকে একের পর এক গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো নারায়ণগঞ্জজুড়ে। অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি রোধে ত্রুটিপূর্ণ লাইন সংস্কারে প্রশাসনের নজরদারি চায় এলাকাবাসী।
সচেতন মহল বলছে, গ্যাস লাইন ও সিলিন্ডারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি জরুরি হয়ে পড়েছে।

ডেস্ক : 





















