ঢাকা , রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যত্রতত্র স্পিড ব্রেকার, ঝুঁকিতে রোগী ও প্রসূতিরা

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও এর আশপাশের শাখা সড়কগুলোতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মিত অপরিকল্পিত স্পিড ব্রেকার এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরকারি আইন ও প্রকৌশলগত নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে পাড়া-মহল্লার প্রভাবশালীরা নিজ বাড়ির সামনে ১০ হাত অন্তর অন্তর উঁচু উঁচু গতিরোধক নির্মাণ করছেন। এতে জনচলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে বয়স্ক নারী-পুরুষ, শিশু, রোগী ও গর্ভবতী মায়েরা।
সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর বৌ বাজার, মাসদাইর, ইসদাইর, গাবতলী, শাসনগাঁও, ভোলাইল এবং দেওভোগ এলাকা ঘুরে দেখা যায় অবর্ণনীয় চিত্র। এসব এলাকার ভেতরের সড়কগুলোতে সুনির্দিষ্ট কোনো দূরত্ব বজায় না রেখেই গতিরোধক বসানো হয়েছে। কোথাও কোথাও মাত্র ১২ থেকে ১৫ ফুট দূরত্বে একেকটি স্পিড ব্রেকার দেওয়া হয়েছে। দশ ইঞ্চির ইট, রড সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে ইচ্ছেমতো উচ্চতায় তৈরি এসব প্রতিবন্ধকতা পার হতে গিয়ে রিকশা, ইজিবাইক বা সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে কসরত করতে হচ্ছে নানাভাবে। এমন উঁচু গতিরোধক পার হতে গিয়ে গাড়ির নিচের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যার ফলে বাড়ছে যানজট।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার পাশে যাদের বাড়ি বা দোকান আছে, তারা নিজেদের খেয়ালখুশিমতো এসব স্পিড ব্রেকার বানাচ্ছেন। খানপুর বৌ বাজার এলাকার এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এলাকার তথাকথিত প্রভাবশালীরা তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে গাড়ি যাওয়ার শব্দ বা ধুলোবালি এড়াতে নিয়ম না মেনে এসব বানাচ্ছে। প্রতিবাদ করলে উল্টো ধমক খেতে হয়। প্রশাসনের ভয় না থাকায় যে যার মতো রাস্তা দখল করে গতিরোধক দিচ্ছে।
গণপরিবহনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের নাভিশ্বাস উঠেছে। নিয়মিত ইজিবাইকে চলাচলকারী এক যাত্রী বলেন, উঁচু স্পিড ব্রেকারগুলোর ওপর দিয়ে যখন গাড়ি ওঠে আর সজোরে নিচে নামে, তখন মনে হয় যেন হৃদপিণ্ডটা ছিঁড়ে বাইরে চলে আসবে। শরীরের প্রতিটি জোড়ায় প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করি।
বিশেষ করে কোমরের সমস্যায় আক্রান্ত ও বয়স্কদের জন্য এই পথ দিয়ে যাতায়াত করা এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা রোগী ও প্রসূতি মায়েদের। খানপুর তিনশ শয্যা হাসপাতালসহ শহরের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার পথে এসব উঁচু স্পিড ব্রেকার রীতিমতো আতঙ্ক। জরুরি রোগীদের নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স বা রিকশা যখন এসব গতিরোধকের ওপর দিয়ে যায়, তখন প্রতিটি ঝাঁকুনি রোগীর জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেওয়ার উপক্রম করে।
এক ভুক্তভোগী স্বজন জানান, আমার স্ত্রীকে যখন গর্ভাবস্থায় হাসপাতালে নিচ্ছিলাম, তখন গাবতলী ও দেওভোগের ভেতরের রাস্তার স্পিড ব্রেকারগুলো দেখে আঁতকে উঠেছি। ডাক্তাররা বলেন ঝাঁকুনি প্রসূতির জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক, কিন্তু নারায়ণগঞ্জের অলিগলি এখন ঝাঁকুনির কারখানায় পরিণত হয়েছে। অনেক মা ভয়ে চেকআপে যেতে চান না।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) কারিগরি নির্দেশনা অনুযায়ী, আবাসিক এলাকায় স্পিড ব্রেকারের উচ্চতা সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি হওয়ার কথা এবং তা অন্তত ৩০০ ফুট দূরত্বে স্থাপন করার নিয়ম। এছাড়া গতিরোধকের ওপর সাদা বা হলুদ রঙের মার্কিং থাকা বাধ্যতামূলক, যাতে চালক দূর থেকে তা দেখতে পান। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের কোনো স্পিড ব্রেকারেই এমন কোনো চিহ্ন নেই। রাতের অন্ধকারে অপরিচিত চালকরা এসবের ওপর দিয়ে দ্রুতগতিতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
শাসনগাঁও বা ভোলাইলের মতো ভেতরের রাস্তাগুলোতে মানুষ যে উচ্চতায় স্পিড ব্রেকার বানিয়েছে, তাতে সুস্থ মানুষই অসুস্থ হয়ে পড়ে। ডাক্তারের কাছে গিয়ে চেকআপের সুফলের চেয়ে রাস্তায় আসার কষ্টের প্রভাব শরীরে বেশি পড়ে।” এই দুর্ভোগের সত্যতা স্বীকার করে খানপুর এলাকার অ্যাম্বুলেন্স চালক রফিক মিয়া বলেন, জরুরি রোগী নিয়ে যখন দ্রুত যাওয়ার চেষ্টা করি, তখন এই ঘনঘন স্পিড ব্রেকারগুলো আমাদের হাত-পা বেঁধে দেয়। ১০ হাত পরপর যে উঁচু ব্রেকার, তাতে রোগীর আর্তনাদ আমাদের সহ্য করতে হয়। মনে হয় যেন চাকা নয়, আমরা দেয়ালের ওপর দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছি। সময়মতো হাসপাতালে না পৌঁছাতে পারলে দোষ আমাদের হয়, কিন্তু রাস্তার বাধার কথা কেউ শোনে না।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, রংহীন ও অপরিকল্পিত এসব স্পিড ব্রেকারের কারণে রাতে অপরিচিত চালকরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী ব্যক্তিগত উদ্যোগে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। জনগণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো বা জীবন ঝুঁকিতে ফেলার অধিকার কারও নেই এবং অবৈধ গতিরোধকগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, পৌর এলাকার শাখা সড়কগুলোতে গতিরোধক দেওয়ার একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড আছে। যারা দাপট দেখিয়ে বা ইচ্ছেমতো উঁচু করে এগুলো তৈরি করেছেন, তারা আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে এসব অবৈধ স্থাপনা দ্রুত গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে এবং যেখানে নিরাপত্তা প্রয়োজন সেখানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের এই আশ্বাসের দ্রুত বাস্তবায়ন চান নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ, যাতে রোগী ও প্রসূতিদের নিয়ে চলাচলের পথটি আর বিভীষিকায় পরিণত না হয়।
আইনত ব্যক্তিগত উদ্যোগে জনচলাচলের রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বছরের পর বছর ধরে এসব অবৈধ স্থাপনা থাকলেও প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে অবৈধ ও অবৈজ্ঞানিক স্পিড ব্রেকারগুলো অপসারণ করা হোক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ জরুরি, কিন্তু তা হতে হবে নিয়ম মেনে। যত্রতত্র উঁচু স্পিড ব্রেকার কেবল দুর্ভোগই বাড়ায় না, বরং এটি আধুনিক নগর পরিকল্পনার পরিপন্থী। নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দারা এখন প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় আছেন, যাতে মানুষের চলাচলের পথটি আর ‘যন্ত্রণার গলি’ না থাকে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

যত্রতত্র স্পিড ব্রেকার, ঝুঁকিতে রোগী ও প্রসূতিরা

আপডেট সময় ০১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও এর আশপাশের শাখা সড়কগুলোতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মিত অপরিকল্পিত স্পিড ব্রেকার এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরকারি আইন ও প্রকৌশলগত নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে পাড়া-মহল্লার প্রভাবশালীরা নিজ বাড়ির সামনে ১০ হাত অন্তর অন্তর উঁচু উঁচু গতিরোধক নির্মাণ করছেন। এতে জনচলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে বয়স্ক নারী-পুরুষ, শিশু, রোগী ও গর্ভবতী মায়েরা।
সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর বৌ বাজার, মাসদাইর, ইসদাইর, গাবতলী, শাসনগাঁও, ভোলাইল এবং দেওভোগ এলাকা ঘুরে দেখা যায় অবর্ণনীয় চিত্র। এসব এলাকার ভেতরের সড়কগুলোতে সুনির্দিষ্ট কোনো দূরত্ব বজায় না রেখেই গতিরোধক বসানো হয়েছে। কোথাও কোথাও মাত্র ১২ থেকে ১৫ ফুট দূরত্বে একেকটি স্পিড ব্রেকার দেওয়া হয়েছে। দশ ইঞ্চির ইট, রড সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে ইচ্ছেমতো উচ্চতায় তৈরি এসব প্রতিবন্ধকতা পার হতে গিয়ে রিকশা, ইজিবাইক বা সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে কসরত করতে হচ্ছে নানাভাবে। এমন উঁচু গতিরোধক পার হতে গিয়ে গাড়ির নিচের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যার ফলে বাড়ছে যানজট।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার পাশে যাদের বাড়ি বা দোকান আছে, তারা নিজেদের খেয়ালখুশিমতো এসব স্পিড ব্রেকার বানাচ্ছেন। খানপুর বৌ বাজার এলাকার এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এলাকার তথাকথিত প্রভাবশালীরা তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে গাড়ি যাওয়ার শব্দ বা ধুলোবালি এড়াতে নিয়ম না মেনে এসব বানাচ্ছে। প্রতিবাদ করলে উল্টো ধমক খেতে হয়। প্রশাসনের ভয় না থাকায় যে যার মতো রাস্তা দখল করে গতিরোধক দিচ্ছে।
গণপরিবহনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের নাভিশ্বাস উঠেছে। নিয়মিত ইজিবাইকে চলাচলকারী এক যাত্রী বলেন, উঁচু স্পিড ব্রেকারগুলোর ওপর দিয়ে যখন গাড়ি ওঠে আর সজোরে নিচে নামে, তখন মনে হয় যেন হৃদপিণ্ডটা ছিঁড়ে বাইরে চলে আসবে। শরীরের প্রতিটি জোড়ায় প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করি।
বিশেষ করে কোমরের সমস্যায় আক্রান্ত ও বয়স্কদের জন্য এই পথ দিয়ে যাতায়াত করা এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা রোগী ও প্রসূতি মায়েদের। খানপুর তিনশ শয্যা হাসপাতালসহ শহরের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার পথে এসব উঁচু স্পিড ব্রেকার রীতিমতো আতঙ্ক। জরুরি রোগীদের নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স বা রিকশা যখন এসব গতিরোধকের ওপর দিয়ে যায়, তখন প্রতিটি ঝাঁকুনি রোগীর জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেওয়ার উপক্রম করে।
এক ভুক্তভোগী স্বজন জানান, আমার স্ত্রীকে যখন গর্ভাবস্থায় হাসপাতালে নিচ্ছিলাম, তখন গাবতলী ও দেওভোগের ভেতরের রাস্তার স্পিড ব্রেকারগুলো দেখে আঁতকে উঠেছি। ডাক্তাররা বলেন ঝাঁকুনি প্রসূতির জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক, কিন্তু নারায়ণগঞ্জের অলিগলি এখন ঝাঁকুনির কারখানায় পরিণত হয়েছে। অনেক মা ভয়ে চেকআপে যেতে চান না।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) কারিগরি নির্দেশনা অনুযায়ী, আবাসিক এলাকায় স্পিড ব্রেকারের উচ্চতা সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি হওয়ার কথা এবং তা অন্তত ৩০০ ফুট দূরত্বে স্থাপন করার নিয়ম। এছাড়া গতিরোধকের ওপর সাদা বা হলুদ রঙের মার্কিং থাকা বাধ্যতামূলক, যাতে চালক দূর থেকে তা দেখতে পান। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের কোনো স্পিড ব্রেকারেই এমন কোনো চিহ্ন নেই। রাতের অন্ধকারে অপরিচিত চালকরা এসবের ওপর দিয়ে দ্রুতগতিতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
শাসনগাঁও বা ভোলাইলের মতো ভেতরের রাস্তাগুলোতে মানুষ যে উচ্চতায় স্পিড ব্রেকার বানিয়েছে, তাতে সুস্থ মানুষই অসুস্থ হয়ে পড়ে। ডাক্তারের কাছে গিয়ে চেকআপের সুফলের চেয়ে রাস্তায় আসার কষ্টের প্রভাব শরীরে বেশি পড়ে।” এই দুর্ভোগের সত্যতা স্বীকার করে খানপুর এলাকার অ্যাম্বুলেন্স চালক রফিক মিয়া বলেন, জরুরি রোগী নিয়ে যখন দ্রুত যাওয়ার চেষ্টা করি, তখন এই ঘনঘন স্পিড ব্রেকারগুলো আমাদের হাত-পা বেঁধে দেয়। ১০ হাত পরপর যে উঁচু ব্রেকার, তাতে রোগীর আর্তনাদ আমাদের সহ্য করতে হয়। মনে হয় যেন চাকা নয়, আমরা দেয়ালের ওপর দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছি। সময়মতো হাসপাতালে না পৌঁছাতে পারলে দোষ আমাদের হয়, কিন্তু রাস্তার বাধার কথা কেউ শোনে না।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, রংহীন ও অপরিকল্পিত এসব স্পিড ব্রেকারের কারণে রাতে অপরিচিত চালকরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী ব্যক্তিগত উদ্যোগে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। জনগণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো বা জীবন ঝুঁকিতে ফেলার অধিকার কারও নেই এবং অবৈধ গতিরোধকগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, পৌর এলাকার শাখা সড়কগুলোতে গতিরোধক দেওয়ার একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড আছে। যারা দাপট দেখিয়ে বা ইচ্ছেমতো উঁচু করে এগুলো তৈরি করেছেন, তারা আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে এসব অবৈধ স্থাপনা দ্রুত গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে এবং যেখানে নিরাপত্তা প্রয়োজন সেখানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের এই আশ্বাসের দ্রুত বাস্তবায়ন চান নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ, যাতে রোগী ও প্রসূতিদের নিয়ে চলাচলের পথটি আর বিভীষিকায় পরিণত না হয়।
আইনত ব্যক্তিগত উদ্যোগে জনচলাচলের রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বছরের পর বছর ধরে এসব অবৈধ স্থাপনা থাকলেও প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে অবৈধ ও অবৈজ্ঞানিক স্পিড ব্রেকারগুলো অপসারণ করা হোক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ জরুরি, কিন্তু তা হতে হবে নিয়ম মেনে। যত্রতত্র উঁচু স্পিড ব্রেকার কেবল দুর্ভোগই বাড়ায় না, বরং এটি আধুনিক নগর পরিকল্পনার পরিপন্থী। নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দারা এখন প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় আছেন, যাতে মানুষের চলাচলের পথটি আর ‘যন্ত্রণার গলি’ না থাকে।