সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ কর্মী হয়েও যেসকল ব্যক্তিরা এ শহরে বেশি দাপুট দেখাতেন তাদের মধ্যে অন্যতম নাসিক ১৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধান। এ শফিউদ্দিনরাই মূলত ওসমানদের এ নারায়ণগঞ্জে প্রভূ বানিয়ে রেখেছিলেন। তারা সর্বদাই ওসমানদের দাসত্ব করে চলতেন এবং সবাইকে তাদের মুরিদ করার চেষ্টা করতেন।
জানাগেছে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে শফিউদ্দিনের সাথে সবচাইতে বেশি ঘনিষ্ঠতা ছিলো নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ সেলিম ওসমানের সাথে। সেলিম ওসমানের নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা থেকে শুরু করে বিভিন্নকাজে তাকে দেখা যেতো অগ্রভাগে। সেলিম ওসমানের পাশাপাশি শামীম ওসমানের সাথেও তার ঘনিষ্ঠতা কম ছিলো না।
শামীম ওসমানের সকল সভা সমাবেশে তিনি মিছিল নিয়ে অংশগ্রহণ করতেন। শুধু তাই নয়, শামীম ওসমানের পক্ষে সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্যও দিতেন তিনি। বলতেন, সেলিম ওসমান-শামীম ওসমান আমার নেতা। আমরা তাদের পাশে আছি এবং থাকবো, ইনশাআল্লাহ্। বিগত ষোলটি বছরে এমন হাজারো বক্তব্য দিয়ে তিনি ওসমান পরিবারের আস্থাভাজন হিসেবে কাজ করেছেন।
বিশ্বস্তসূত্র আরও জানায়, আওয়ামী লীগ শাসনামলে প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় শহরের কালীবাজার¯ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আড্ডা বসতেন তিনি। এখানে বসেই তারা গডফাদার শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের দেয়া নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্য আলাপ-আলোচনা করতেন।
শুধু তাই নয়, ওসমানদের প্রভাব খাটিয়ে রেলওয়ের জায়গা দখলসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন তিনি। এত অপকর্ম করা সত্বেও ওসমানদের ভয়ে তখন কেউ কিছু বলতে পারেনি। শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের সাথে গভীর ঘনিষ্ঠতা থাকার কারণে অনেকের সাথেই র্দুব্যবহার ও দাম্ভিকতা দেখাতো শফিউদ্দিন। যদি সাহস করে কেউ প্রতিবাদ করতেন তাহলে তাদেরকে কোণঠাসা করে রাখতেন তিনি।শুধু তাই নয়, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময়ও শফিউদ্দিনরা এ অভ্যুত্থানের চরম বিরোধীতা করেছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, জুলাইয়ে ছাত্রদের যৌক্তিক এ আন্দোলনের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন তিনি। ওসমানদের পক্ষে মাঠেও নেমেছিলেন। কিন্তু তারা সেদিন ছাত্রদের দাবিয়ে রাখতে পারেন নি। পরবর্তিতে গণ আন্দোলনের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ওসমানদের সাম্রাজ্য ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই সময় অনেকটা ভীতসন্তুষ্ট ছিলেন ওসমানদের দোসর শফিউদ্দিনরা। বেশ কিছুদিন তারা বাসা থেকেও বের হন নাই।
কিন্তু পরবর্তিতে কোন এক রহস্যজনক কারণে প্রকাশ্যে আসেন শফিউদ্দিন। সরাসরি জুলাই অভ্যুত্থানের বিরোধীতা করা এ শফিউদ্দিনদের প্রকাশ্যে আসতে দেখে নগরবাসীর মনে নানা প্রশ্নের সঞ্চার হতে দেখা গেছে।
নগরবাসী বলছেন, এ শহরের সবাই জানে শফিউদ্দিন ওসমানদের দোসর ছিলেন। তারা এদেশে জুলাই অভ্যুত্থান চান নি। বিগত সময়ে ওসমানরা যা চেয়েছেন, তারা সেটাই তামিল করেছেন। তাদের সহযোগীতাই নারায়ণগঞ্জবাসীকে ওসমান পরিবার জিন্মি করে রেখেছিলেন। কিন্তু ৫ আগস্টে ওসমানের পতন হলেও কোন এক রহজ্যজনক কারণে এ শফিউদ্দিনরা রয়ে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে।
তারা এখনও এ শহরে বুক ফুলিয়ে চলছেন এবং নতুন করে নির্বাচন করারও স্বপ্ন দেখেন। যা নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য খুবই কলঙ্কের বলে আমরা মনে করি। এ শফিউদ্দিনরা যদি এদেশে নির্বাচন করার সুযোগ পায় তাহলে এটাতো সরাসরি জুলাই অভ্যুত্থানের সাথে বেঈমানি করা হবে।
কারণ, জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছে ওসমান পরিবার ও সহযোগীরা। সুতরাং তারা যদি অপরাধী হয় তাহলে শফিউদ্দিনরাও সমান অপরাধে অপরাধী। কারণ, তারা সেদিন ওসমানদের সহযোগী ছিলেন। তাই আমরা প্রশাসনসহ বর্তমান সরকার তারেক রহমানের কাছে আহ্বান জানাবো, যারা জুলাই অভ্যুত্থান চান নি, যারা ওই ওসমানদের সাথে থেকে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়েছে, তাদেরকে সহযোগীতা করেছে, তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনুন। নগরবাসী আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান বিরোধীতাকারিদের কোন ছাড় নেই, এ বিষয়ে কোন আপষ চলবে না। নারায়ণগঞ্জবাসীসহ দেশের মানুষ এটা মেনে নিবে না। তাই আমরা ছাত্র-জনতা হত্যাকারী ওসমানদের দোসর শফিউদ্দিনদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ শিরোনাম ::
৪ বছর পর ডাকাতি রহস্যের উদঘাটন
মেরিনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কর্মকান্ডে ক্ষোভ
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ২ আসামি গ্রেপ্তার
তক্ষকসহ ২ জন আটক, জরিমানা
৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১
হাজীগঞ্জ ও সিরাজউদ্দৌলা সড়কে উচ্ছেদ
সোনারগাঁয়ের রসালো লিচু বাজারে
সেই শফিউদ্দিন এখনও বহাল তবিয়তে
সিরাজ মন্ডলের ছবি তুলতে বাধা
গাজী উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ
সেই শফিউদ্দিন এখনও বহাল তবিয়তে
-
ডেস্ক : - আপডেট সময় এক ঘন্টা আগে
- ০ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ




















