ঢাকা , সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘জুয়াড়ি শাহজাহান’ এখন হকার নেতা

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় এক ঘন্টা আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জ শহরের মাছঘাট এলাকায় একাধিক স্থানে জুয়াড় বোর্ডের নিয়ন্ত্রক মো. শাহজাহান ওরফে ‘জুয়াড়ি শাহজাহান’ ওরফে ‘ছোট শাহজাহান’ এখন হকারদের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। শাহজাহানের বিরুদ্ধে শহরের ফুটপাতে বসা হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলারও অভিযোগ রয়েছে। চাঁদাবাজির অভিযোগে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।
অভিযোগ উঠেছে, গত ১৩ এপ্রিল হকারদের বঙ্গবন্ধু সড়কসহ আশেপাশের ব্যস্ততম সড়কগুলোর ফুটপাত থেকে উচ্ছেদের পর চাঁদাবাজির পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়াতে নিজেই মাঠে নেমেছেন ‘জুয়াড়ি শাহজাহান’। ফুটপাতে বসেই ব্যবসা করার দাবিতে সড়কে হকারদের বিক্ষোভ মিছিলেও নেতৃত্ব দিছেন তিনি। এটি মূলত হকারদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির ধারবাহিকতা রক্ষার চেষ্টা।
এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জুয়াড়ি শাহজাহান জাতীয়তাবাদী হকার ইউনিয়ন দলেরও কমিটিতে আছেন। সংগঠনটির নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটির সহসভাপতির পদে আছেন। এ কমিটির সভাপতি কেএম মিজানুর রহমান রনি। উচ্ছেদের পর শুরুর কয়েকদিন প্রকাশ্যে না থাকলেও গত ৩০ এপ্রিল হকারদের মিছিলে সম্মুখ সারিতে দেখা যায় শাহজাহানকে। হকারদের বিক্ষোভ মিছিলের পঞ্চম দিন রোববারও হকারদের মিছিলে দেখা যায় তাকে।
এইদিন শাহজাহান ওরফে ‘জুয়াড়ি শাহজাহান’ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানেরও বিষোদগার করে বক্তব্য রাখেন। একইসঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ কর্মীদের ‘ছিনতাইকারী’ বলে আখ্যায়িত করেন।
শাহজাহান হকারদের পক্ষ নিয়ে প্রশাসকের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনে মনে করছেন, আমাদের হকারদের উঠায়া দিয়া সিটি কর্পোরেশনে ভালো একটা কাজ কইরা ফেলতেছেন। এইটা কিন্তু অভিশাপ। এতগুলো হকারের অভিশাপ মাথায় নিয়ে নেন। পাপমুক্ত হইতে কামেল একজন মাওলানা নিয়ে তওবা পড়েন। নাইলে গজব পড়বো।”
“উচ্ছেদের নামে তিনডা-চাইরডা গাড়ি আইসা ছিনতাইকারীর মতো, ডাকাইতের মতো হকার ভাইদের মালামাল নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের গোডাউনে নিয়ে যায়। ওই মালামাল ভাগাভাগিও চলে। আপনি কাদের মালামাল নিয়ে ছিনতাইকারীদের হাতে দিলেন। এইগুলো আমাদের কষ্টের টাকা।”
সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারী সম্রাট হাসান সুজনকে ‘ছিনতাইকারীর বডিগার্ড’ বলেও উল্লেখ করেন ‘জুয়াড়ি শাহজাহান’।
তিনি ফুটপাতে বসার পর মালামাল নিতে কেউ আসলে ‘ঝাপিয়ে পড়ারও’ নির্দেশ দেন হকারদের।
এদিকে, পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জাতীয়তাবাদী হকার ইউনিয়ন দলের সহসভাপতি বনে যাওয়া এই শাহজাহান ওরফে ‘জুয়াড়ি শাহজাহান’ ২০২০ সালের ২৬ অক্টোবর ফুটপাত দখল করে বসা হকারদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার সময় গ্রেপ্তার হন। ওই সময় ডিবি পুলিশ তার কাছ থেকে চাঁদাবাজির নগদ টাকাও জব্দ করে।
শাহজাহানের স্থায়ী নিবাস চাঁদপুরের মতলব থানা এলাকায়। তার পিতার নাম নান্না মিয়া। কিন্তু বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে সে নারায়ণগঞ্জ শহরে বসবাস করেন। এবং শহরের কালিরবাজার, লঞ্চঘাট, মাছঘাট এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের কাছ থেকে চাঁদা তোলেন। জুয়ার বোর্ডও নিয়ন্ত্রণ করেন এই শাহজাহান। এক সময় ‘বড় শাহজাহান’ নামে আরেক ব্যক্তি জুয়ার বোর্ডের একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ করলেও বর্তমানে পুরোটাই ‘জুয়াড়ি শাহজাহান’ ওরফে ‘ছোট শাহজাহান’র অধীনে।
তাকে গ্রেপ্তারের পর ডিবি পুলিশের তৎকালীন উপপরির্দশক (এসআই) মনিরুজ্জামান জানিয়েছিলেন, জুয়াড়ি শাহজাহান ওরফে ছোট শাহজাহান ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে শহরের কালিরবাজার, ১ নম্বর রেলগেইট ও ফলপট্টি এলাকায় ফুটপাতে বিভিন্ন দোকান ও ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে আসছিল। চাঁদা আদায়কালে তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
শাহজাহানের বিরুদ্ধে পুলিশের উপর হামলা, মাদক, জুয়া ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছিল পুলিশ।
এ ধরনের একজন চিহ্নিত অপরাধী হকারদের নেতৃত্বে দেওয়ায় ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নগরবাসী। তাদের দাবি হকারমুক্ত ফুটপাতের। একইসঙ্গে হকারদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তুলে ‘জুয়াড়ি শাহজাহানের’ গ্রেপ্তারেরও দাবি জানিয়েছেন কেউ কেউ। চিহ্নিত চাঁদাবাজরা নিজের পকেট ভারী করতে সাধারণ জনগণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে চায় বলেও জানান নগরবাসী।
অন্যদিকে, শহরের ফুটপাতে হকার বসতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় সিটি কর্পোরেশনও। নগর কর্তৃপক্ষ বলছে, ফুটপাত দিয়ে নির্বিঘ্নে সাধারণ মানুষ চলাচল করবে। এখানে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

‘জুয়াড়ি শাহজাহান’ এখন হকার নেতা

আপডেট সময় এক ঘন্টা আগে

স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জ শহরের মাছঘাট এলাকায় একাধিক স্থানে জুয়াড় বোর্ডের নিয়ন্ত্রক মো. শাহজাহান ওরফে ‘জুয়াড়ি শাহজাহান’ ওরফে ‘ছোট শাহজাহান’ এখন হকারদের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। শাহজাহানের বিরুদ্ধে শহরের ফুটপাতে বসা হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলারও অভিযোগ রয়েছে। চাঁদাবাজির অভিযোগে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।
অভিযোগ উঠেছে, গত ১৩ এপ্রিল হকারদের বঙ্গবন্ধু সড়কসহ আশেপাশের ব্যস্ততম সড়কগুলোর ফুটপাত থেকে উচ্ছেদের পর চাঁদাবাজির পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়াতে নিজেই মাঠে নেমেছেন ‘জুয়াড়ি শাহজাহান’। ফুটপাতে বসেই ব্যবসা করার দাবিতে সড়কে হকারদের বিক্ষোভ মিছিলেও নেতৃত্ব দিছেন তিনি। এটি মূলত হকারদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির ধারবাহিকতা রক্ষার চেষ্টা।
এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জুয়াড়ি শাহজাহান জাতীয়তাবাদী হকার ইউনিয়ন দলেরও কমিটিতে আছেন। সংগঠনটির নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটির সহসভাপতির পদে আছেন। এ কমিটির সভাপতি কেএম মিজানুর রহমান রনি। উচ্ছেদের পর শুরুর কয়েকদিন প্রকাশ্যে না থাকলেও গত ৩০ এপ্রিল হকারদের মিছিলে সম্মুখ সারিতে দেখা যায় শাহজাহানকে। হকারদের বিক্ষোভ মিছিলের পঞ্চম দিন রোববারও হকারদের মিছিলে দেখা যায় তাকে।
এইদিন শাহজাহান ওরফে ‘জুয়াড়ি শাহজাহান’ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানেরও বিষোদগার করে বক্তব্য রাখেন। একইসঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ কর্মীদের ‘ছিনতাইকারী’ বলে আখ্যায়িত করেন।
শাহজাহান হকারদের পক্ষ নিয়ে প্রশাসকের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনে মনে করছেন, আমাদের হকারদের উঠায়া দিয়া সিটি কর্পোরেশনে ভালো একটা কাজ কইরা ফেলতেছেন। এইটা কিন্তু অভিশাপ। এতগুলো হকারের অভিশাপ মাথায় নিয়ে নেন। পাপমুক্ত হইতে কামেল একজন মাওলানা নিয়ে তওবা পড়েন। নাইলে গজব পড়বো।”
“উচ্ছেদের নামে তিনডা-চাইরডা গাড়ি আইসা ছিনতাইকারীর মতো, ডাকাইতের মতো হকার ভাইদের মালামাল নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের গোডাউনে নিয়ে যায়। ওই মালামাল ভাগাভাগিও চলে। আপনি কাদের মালামাল নিয়ে ছিনতাইকারীদের হাতে দিলেন। এইগুলো আমাদের কষ্টের টাকা।”
সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারী সম্রাট হাসান সুজনকে ‘ছিনতাইকারীর বডিগার্ড’ বলেও উল্লেখ করেন ‘জুয়াড়ি শাহজাহান’।
তিনি ফুটপাতে বসার পর মালামাল নিতে কেউ আসলে ‘ঝাপিয়ে পড়ারও’ নির্দেশ দেন হকারদের।
এদিকে, পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জাতীয়তাবাদী হকার ইউনিয়ন দলের সহসভাপতি বনে যাওয়া এই শাহজাহান ওরফে ‘জুয়াড়ি শাহজাহান’ ২০২০ সালের ২৬ অক্টোবর ফুটপাত দখল করে বসা হকারদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার সময় গ্রেপ্তার হন। ওই সময় ডিবি পুলিশ তার কাছ থেকে চাঁদাবাজির নগদ টাকাও জব্দ করে।
শাহজাহানের স্থায়ী নিবাস চাঁদপুরের মতলব থানা এলাকায়। তার পিতার নাম নান্না মিয়া। কিন্তু বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে সে নারায়ণগঞ্জ শহরে বসবাস করেন। এবং শহরের কালিরবাজার, লঞ্চঘাট, মাছঘাট এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের কাছ থেকে চাঁদা তোলেন। জুয়ার বোর্ডও নিয়ন্ত্রণ করেন এই শাহজাহান। এক সময় ‘বড় শাহজাহান’ নামে আরেক ব্যক্তি জুয়ার বোর্ডের একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ করলেও বর্তমানে পুরোটাই ‘জুয়াড়ি শাহজাহান’ ওরফে ‘ছোট শাহজাহান’র অধীনে।
তাকে গ্রেপ্তারের পর ডিবি পুলিশের তৎকালীন উপপরির্দশক (এসআই) মনিরুজ্জামান জানিয়েছিলেন, জুয়াড়ি শাহজাহান ওরফে ছোট শাহজাহান ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে শহরের কালিরবাজার, ১ নম্বর রেলগেইট ও ফলপট্টি এলাকায় ফুটপাতে বিভিন্ন দোকান ও ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে আসছিল। চাঁদা আদায়কালে তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
শাহজাহানের বিরুদ্ধে পুলিশের উপর হামলা, মাদক, জুয়া ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছিল পুলিশ।
এ ধরনের একজন চিহ্নিত অপরাধী হকারদের নেতৃত্বে দেওয়ায় ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নগরবাসী। তাদের দাবি হকারমুক্ত ফুটপাতের। একইসঙ্গে হকারদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তুলে ‘জুয়াড়ি শাহজাহানের’ গ্রেপ্তারেরও দাবি জানিয়েছেন কেউ কেউ। চিহ্নিত চাঁদাবাজরা নিজের পকেট ভারী করতে সাধারণ জনগণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে চায় বলেও জানান নগরবাসী।
অন্যদিকে, শহরের ফুটপাতে হকার বসতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় সিটি কর্পোরেশনও। নগর কর্তৃপক্ষ বলছে, ফুটপাত দিয়ে নির্বিঘ্নে সাধারণ মানুষ চলাচল করবে। এখানে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না।